মেয়রদের কাছে গরিব নগরবাসীদের সেবা নিশ্চিতের দাবি

নাগরিক সংলাপঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী মেয়রদের কাছে গরিব নগরবাসীদের সেবা নিশ্চিতসহ ১২ দফা দাবি জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওর (কাপ) এবং বারসিক। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংগঠন তিনটির আয়োজিত যৌথ এক নাগরিক সংলাপে এ দাবি জানান বারসিকের সমন্বয়কারী মো. জাহাঙ্গীর আলম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা দুইজন নবনির্বাচিত নগরপিতা পাবো। এই নগরপিতাদের কাছে যেমন ধনী ও মধ্যবিত্ত নাগরিকদের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে, তেমনি প্রত্যাশা রয়েছে এই নগরের বসবাসরত প্রায় ৪০ লাখের বেশি নিম্ন আয়ের বস্তিবাসী ও পথবাসী মানুষের। বেসরকারি গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরে বসবাসকারী এই মানুষগুলো অধিকাংশই কোনও না কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সর্বস্ব হারিয়ে শহরে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই জানি এই শহরের বস্তিবাসীরা বিভিন্ন ধরনের পেশায় যুক্ত থেকে শহরটাকে সচল করে রেখেছে। কিন্তু রাষ্ট্র এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনকে সচল রাখার জন্য কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয়নি। এই লোকগুলোই ভোট দিয়ে মেয়রদের নির্বাচিত করেন। বিভিন্ন মিটিং-মিছিলে গিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের আরও বড় হওয়ার পথকে সুগম করেন। অথচ নির্বাচন শেষে কেউ এদের আর খোঁজ নেন না।

এসময় তিনি তিনটি সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামীতে নির্বাচিত মেয়রদের কাছে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য ১২ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হচ্ছে— শক্তিশালী নগর সরকার দিতে হবে এবং গরীব নাগরিকদের সব সেবা নিশ্চিত করতে হবে; নগরে বসবাসরত নিম্ন আয়ের মানুষ বিশেষ করে অসহায় নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং প্রবীণ মানুষদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে; গ্রাম ও শহরের মধ্যে সমতার ভিত্তিতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি চালু করতে হবে; শহরের দরিদ্র মানুষের জন্য সমাজসেবা অধিদফতর, মহিলা বিষয়ক অধিদফতর, যুব উন্নয়ন অধিদফতরসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির সব ধরনের কর্মসূচি চালু করতে হবে; সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াকে সহজ করতে হবে; জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা সমস্যার কারণে অনেকেই এই সেবার আওতায় আসতে পারে না। তাই তারা নগরের যেখানে অবস্থান করুক না কেন নাগরিক সুবিধাসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে তাদের যুক্ত করতে হবে; দারিদ্র্যের হার কমানোর জন্য নিম্ন আয়ের মানুষের প্রধান ব্যয়ের খাত যেমন চিকিৎসা, পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিনামূল্যে সরবরাহ করতে হবে; সমাজসেবা অধিদফতর, মহিলা বিষয়ক অধিদফতর, সমাজকল্যাণ, ওয়াসা, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সেবা আরও সহজভাবে বস্তিবাসীদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে; নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য ভর্তুকির মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ের জন্য কার্ডের ব্যবস্থা করতে হবে; বস্তিবাসীদের জন্য সহজভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করার ব্যবস্থা মেয়রকেই করতে হবে; বয়স্ক ভাতা, দরিদ্র মায়েদের ভাতা, বিধবা ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ সব ভাতা প্রচারণা আরও বাড়াতে হবে এবং বস্তিবাসী শিশুদের স্কুলে ঝরে পড়ার হার কমানোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মেয়রকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

নাগরিক সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দেবাশীষ কুমার কুন্ডু এবং কাপের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সানইয়াত প্রমুখ।