সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে দেশবাসী আগামী ৪৮ ঘণ্টা নির্বাচন কমিশনের দিকে তাকিয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘নির্বাচনের দিনকে ঘিরে শঙ্কা থাকলেও আমরা যথেষ্ট মনোবল নিয়ে মাঠে থাকবো। ইভিএমের বিষয়টা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা আছে। তারপরও আমরা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগুচ্ছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার ওপর নির্ভর করবে নিবার্চন কেমন হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশ সংকটে আছে। আমরা সবাই বিভক্ত হয়ে গেছি। জনগণের সমস্যা সমাধানে ঐক্য প্রয়োজন। মেয়রের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে গণমাধ্যম কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।’
এসময় তিনি বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানান এবং সমবেদনা প্রকাশ করেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে সব শঙ্কা কেটে গেছে। আশা করি, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে প্রত্যাশা করছি। প্রার্থীরাও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন বলে আশা করি।’ মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন— প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শ্যামল দত্ত ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন- বিএফইউজের সাবেক সভাপতি ইকবাল সোবাহান চৌধুরী, মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদ মো. শহিদুল ইসলাম, ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোরসালিন নোমানী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ত্র্যানীসহ বিএনপি তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এরপর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মতবিনিময় করেন বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। তিনি বলেন, ‘ধন্যবাদ জানাই সংবাদ কর্মীদের। তারা লেভেল প্লেয়িং ফ্লিড পেতে কাজ করছেন। গণমাধ্যমের ওপর আস্থা আগেও ছিল, এখনও আছে। এবারের প্রচারের সময় ছয় জন সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের প্রতি আমার সমবেদনা। আমরা আশা করছি, নির্বাচনের দিনে কোনও সংবাদকর্মী আহত বা বাধার শিকার হবেন না।’
ভোটারদের উদ্দেশ তিনি বলেন, ‘আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আমাদের উদ্দেশ্য গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। আমরা ভোট গণনা পর্যন্ত মাঠে থাকবো। ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোটে দিলে চুরি করা সম্ভব হবে না। ভোট দিয়ে ভোট চুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
ধানের শীষের প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যদি চায়, জনগণের ও গণতন্ত্রের স্বার্থে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। আমাদের আশঙ্কার জায়গা নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে। এরইমধ্যে আমাদের সুনির্দিষ্ট ১০৪টি অভিযোগ আমলে না নিয়ে খারিজ করে দিয়েছেন। তাদের ইভিএম পরিচালনার সক্ষমতা নেই, তাই সহায়তার জন্য সেনা বাহিনীর থেকে জনবল নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশকে প্রভাবিত করছে। নির্বাচন কমিশনকে ভূমিকা রাখতে হবে। যেন তারা কোনও ব্যক্তিকে অ্যালাউ না করেন, কেউ যেন নির্বাচন বানচাল করতে না পারে।’
তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘দেশনেত্রীখালেদা জিয়াকে কারাগারে অন্যায়ভাবে রাখা হয়েছে। ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করলে খালেদা জিয়ার মুক্তি তরান্বিত হবে।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন— ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানী, সাবেক সহসভাপতি আবু দারতা জোবায়ের, সাবেক নির্বাহী সদস্য রাশেদুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ত্র্যানী প্রমুখ।