এমপিদের প্রচারণার বিপক্ষে বিএনপি, সিইসিতে দাবি পেশ

পৌরসভা নির্বাচন ১৫ দিন পিছিয়ে দেওয়াসহ বেশ কয়েকটি দাবি দাওয়া নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদের সঙ্গে দেখা করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। রবিবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম ওসমান ফারুকের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি দল সিইসির সঙ্গে দেখা করেন।

নির্বাচন কমিশনের কাছে পেশ করা দাবিগুলো হলো- পৌর নির্বাচন ১৫ দিন পিছিয়ে দেওয়া, মহাসচিবসহ দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা ইত্যাদি।

প্রায় এক ঘণ্টা সিইসির সঙ্গে আলাপের পর বাইরে এসে সাংবাদিকেদের উদ্দেশে ওসমান ফারুক বলেন, ‘আমরা ইসির কাছে একটি লিখিত প্রস্তাব দিয়েছি। সিইসিকে বলেছি, সামনের জানুয়ারিতে অন্তত ৫০ লাখ নতুন ভোটার তালিকায় যুক্ত হবে। তাই তাড়াহুড়ো করে এই নির্বাচনের তফসিল না দিয়ে নতুন ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারে তার জন্য নির্বাচন অন্তত ১৫ দিন পিছিয়ে দেওয়া হোক। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার কথাও বলেছি। এছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের ধরপাকড় শুরু হয়েছে। যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অন্তরায়। এসব বন্ধ করতে হবে। আমরা দলের মহাসচিবসহ অন্যান্য বন্দিদের মুক্তিরও দাবি জানিয়েছি। তাছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, মন্ত্রী, এমপিরা যাতে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন সেদিকে দৃষ্টি রাখতেও সিইসিকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি প্রচার প্রচারণার সুযোগ দিতে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের দাবির বিরোধিতা করে ওসমান ফারুক বলেন, ‘এই সুযোগ দেওয়া হলে শুধু ইসির নয় সরকারের ভাবমুর্তিও ক্ষুণ্ন হবে। সিইসি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে তারা যতদূর সম্ভব ব্যবস্থা নেবেন। তবে তিনি বলেছেন, নির্বাচন পেছানোর ব্যাপারে কিছু আইনি বাধ্যবাধকতা আছে। আমরা তাকে বলেছি, তারপরও তাড়াহুড়ো না করে আইন সংশোধন করে হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠান করা প্রয়োজন। কারণ নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান আইনি বেড়াজালে আটকা থাকতে পারে না।’

বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন, দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, এসএম আব্দুল হালিম, ক্যাপ্টেন (অব.) সুজা উদ্দিন ও যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

/ইএইচএস/এসএম/এএইচ/