এ বিষয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটিকে বৈঠক করার প্রস্তাব দিয়েছি। তবে এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এর বাইরে কিছু বলতে পারবো না। ’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির এক নেতা বলেন, বৈঠকের একপর্যায়ে জেএসডির নেতা শহীদুল্লাহ কাউসার বলেন, আন্দোলনে যাওয়ার শর্তে আমরা বিএনপিকে সিটি নির্বাচনে সমর্থন দিয়েছি। তাহলে এখন আমাদের সবাইকে রাস্তায় নামা উচিত। তখন বিএনপি নেতা মঈন খান বলেন, আমাদের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কেউ হরতাল দিতে রাজি ছিলেন না। তখন আমি জোটের সমর্থনের কথাটি উপস্থাপন করি। এরপরই নির্বাচনের পরের দিন হরতাল দেওয়ার জন্য স্থায়ী কমিটি রাজি হয়েছে। তখন জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, তাহলে আমরা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সঙ্গে বৈঠক করি। আমাদের মধ্যে যেসব সমস্যা আছে সেগুলো নিয়ে কথা বলে সমাধান করি। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঈন খান বলেন, স্থায়ী কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠক করার বিষয়ে রাজি করাতে হবে আগে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আসম আব্দুর রব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৈঠকে সিটি নির্বাচন ও আমাদের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’
কর্মসূচি ঘোষণা করে না পালন করার বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, ‘আপনি সঠিকভাবে এগুলো চিহ্নিত করেছেন। এগুলো নিয়ে আজকে আমাদের আলোচনা হয়েছে, আগামীতে আমাদের কর্মসূচি আরও জোরদার করতে হবে। জনগণের মাঝে গিয়ে তাদের নিয়ে পরিবর্তন আনতে হবে।’
বৈঠকে উপস্থিত দুই নেতা জানান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পরিধি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। জোটে ইসলামি দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করারও প্রস্তাব দেন জাফরুল্লাহ। এ বিষয়ে বিএনপির মধ্যেও আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছে তাদের প্রতিনিধি। তবে এ নিয়ে কামাল হোসেন কোনও কথা বলেননি। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার দুই বছরের কারাবাসের প্রতিবাদে ঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন শেষে হাইকোর্ট পর্যন্ত পদযাত্রা করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এছাড়া সিটি নির্বাচনে ভোটারের অনুপস্থিতি এবং নির্বাচনের দিন বিএনপির মাঠ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।