করোনা ভাইরাসের থাবা পড়েছে উৎসবের আঙ্গিনায়ও। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব দোলযাত্রাতেও পড়েছে এর প্রভাব। সোমবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় দোলযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা। তবে এবছর করোনা ভাইরাসের কারণে আনুষ্ঠানিকতা সংক্ষিপ্ত করেছে মহানগর সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি। আর তাতে ভাটা পড়েছে ভক্ত সমাগমে।
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল থেকেই ভক্তরা আসতে শুরু করেন। উলুধ্বনিতে মুখর মন্দির প্রাঙ্গণ। ঠাকুরের পায়ে আবির দিয়ে দোলযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা পালিত হচ্ছে।
সনাতন বৈষ্ণবদের উৎসব এই দোলযাত্রা। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন বৃন্দাবনে শ্রীরাধিকা এবং তার সখীদের সঙ্গে আবির খেলেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। সেই ঘটনা থেকেই দোলখেলার উৎপত্তি। তাই দোলযাত্রার দিনের এই মতের বিশ্বাসীরা রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ আবিরে রাঙিয়ে দোলায় চড়িয়ে নগর কীর্তনে বের হন। এসময় রঙ খেলায় মেতে ওঠেন তারা।
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের বিভিন্ন দেয়ালে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে নোটিশ। সেখানে লেখা— মন্দির প্রাঙ্গণে রঙ খেলা যাবে না। তবুও ভক্তরা সীমিতভাবে দোল উদযাপন করছেন। মন্দির প্রাঙ্গণে রঙ খেলতে মগ্ন এক ভক্ত জানান, এবার মানুষ কম। অন্যান্যবার অনেক মানুষ আসে। এখানেই সবাই রঙ খেলে মাতামাতি করে।
অন্যদিকে বন্ধুরা আসতে রাজি না হওয়ায় একাই রঙ খেলা দেখতে এসেছেন সীমা দত্ত। সঙ্গে আছেন তার ছোট বোন। তিনি বলেন, ‘এবার রঙয়ের ছড়াছড়ি কম। দোল পূর্ণিমার আয়োজন মাতিয়ে রাখে রঙের খেলা।’
এবার শুধু ঠাকুরের পায়ে আবির দিয়েই দোল পূর্ণিমার আনুষ্ঠানিকতা হবে বলে জানিয়েছেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মণ্ডল।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবার আমরা শুধু ঠাকুরের পায়ে আবির দেবো। আমাদের পক্ষ থেকে এবার কোনও রঙ খেলায় অংশগ্রহণ করবো না। অন্যরা কেউ যেন না করে। এর বেশি আমাদের আর কোনও আয়োজন নেই। বৈঠকে আমরা ৫২টি থানার নেতাদেরকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বড় আকারে হোলি আমরা কখনোই খেলি না ঢাকা শহরে। আমরা সবসময় নিরুৎসাহিত করি। আবির আমরা সবসময় ঠাকুরের পায়ে দেই।’