সন্তানের বৈধতা যাচাই নিয়ে সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

হাইকোর্ট

সন্তান বৈধ নাকি অবৈধ তা বিচার সংক্রান্ত সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে  না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ধারাটি সংশোধন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (৯ মার্চ) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম এম জি সরোয়ার পায়েল।

বৈধ-অবৈধ সন্তানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারায় বলা হয়েছে , যখন কোনও সন্তান তার বাবা-মায়ের বৈধ বিবাহের ফলে অথবা বিবাহ বিচ্ছেদের ২৮০ দিনের মধ্যে জন্মগ্রহণ করে এবং ওই সন্তানের মা যদি অবিবাহিত থাকেন তবে সে সন্তান ওই ব্যক্তির বৈধ সন্তান হিসেবে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হবে। যদি না অন্য কোনও ব্যক্তি দেখাতে পারেন যে সন্তানের মায়ের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক ছিল না।

ওই ধারাটি নিয়ে রিট আবেদনে বলা হয়, সন্তানের পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব পরীক্ষা হতেই পারে। কিন্তু বৈধতা বা সন্তানকে অবৈধ ঘোষণা দেওয়ার ব্যাপারটি একেবারেই অবান্তর। এর মাধ্যমে বৈধ ও অবৈধ সন্তানের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়। কোনও সন্তান যদি আদালতের মাধ্যমে বৈধ প্রমাণিত না হয়, তবে তাকে সারাজীবন অবৈধ সন্তানের উপাধি নিয়ে নিগৃহীত হতে হবে এবং সমাজের কাছে ছোট হতে হবে যা একেবারেই কাম্য নয়। আবার ধর্ষণের ফলেও সন্তান জন্মগ্রহণ করতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এরকম অসংখ্য ঘটনার নজির রয়েছে। তাই বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তের জন্য একটি নিষ্পাপ শিশুকে অপমান করা যুক্তিযুক্ত নয়।

রিট আবেদনে আরও বলা হয়, এটি ১৮৭২ সালে লিখিত ১৫০ বছরের পুরাতন আইন। ব্রিটিশ আমলে করা এ আইন বর্তমান যুগের জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত। বর্তমান সময়ে ডিএনএ টেস্টের সুযোগ রয়েছে। তাই এ ধারাটি সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং  বৈষম্যমূলক। এছাড়া ইউনিভার্সেল ডিক্লারেশন অফ হিউম্যান রাইটসের পরিপন্থী।