তিনি বলেন, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া তথ্য সংগ্রহ করে ইউটিউবে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে তিনি এমন মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছেন ও তাতে সহায়তা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মামলার এজাহারে ফেসবুক ও ইউটিউবের কয়েকটি লিংক উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে অসংখ্য ভিডিও প্রকাশ ও প্রচার করা হয়েছে। যা সর্বাত্মকভাবে মিথ্যা ও জাল তথ্য। প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের প্রতি কুৎসা রটনা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে হেয় প্রতিপন্ন করে মিথ্যা ও বানোয়াট কল্পকাহিনী প্রচার করা হয়েছে। এসবের মাধ্যমে অপরাজনীতির চর্চাকে উসকে দেওয়ারও ধৃষ্টতাও দেখানো হয়েছে। ভিডিও সমূহে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও সিনিয়র সচিবসহ রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় পর্যায়ের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, উপরোল্লিখিত ভিডিও সমূহের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি লাভলু সশরীরে উপস্থিত হয়ে বেআইনি অপতৎপরতা চালিয়েছেন। এই অভিযুক্ত ব্যক্তি অতীতেও মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে প্রচুর সম্পদের মালিক বনে যান এবং অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। পুলিশের তদন্তে সে একজন প্রতিষ্ঠিত অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসায়ী। অনলাইন গেমের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে অনলাইনে জুয়ার ব্যবসা চালাতেন। অভিযোগের সঙ্গে পুলিশের তদন্ত রিপোর্টটিও যুক্ত করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, লাভলু তার শুদ্ধসত্ত্ব নামের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে বিগত প্রায় দশ মাস ধরে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুন্ন করতে মিথ্যা তথ্যের ভিডিওসমূহ প্রকাশ করে আসছে।
মামলার বাদী আশিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ আছেন, যাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। এর জন্য তথ্য প্রমাণসহ সপ্রণোদিত হয়ে আইসিটি আইনের ২৫ থেকে ৩১ ধারায় আমি এই মামলা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার এই মামলার পেছনে যদি কারণ না থাকতো, তবে থানা পুলিশ এই মামলাটি নিতো না। আমি একজন সাধারণ মানুষ। আমি যখন ভিডিওগুলো দেখলাম, তখন আমার মনে হলো এই ধরনের কার্যকলাপ হওয়া উচিত নয় এবং আমাদের প্রতিবাদ জানানো দরকার। একজন সুনাগরিক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে রোল প্লে করার চেষ্টা করেছি।’