বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।
রবিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্লাস্ট জানায়, শুক্রবার (১৩ মার্চ) কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এবং একইদিন রাত আড়াইটায় মোবাইল কোর্ট বসিয়ে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায় যে, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করছিলেন আরিফুল ইসলাম। যদিও তাকে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যম থেকে আরও জানা যায় যে, বাড়ির দরজা ভেঙে মধ্যরাতে তার বাসায় প্রবেশ করে এবং তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে।
আইন অনুযায়ী বাসা থেকে কোনও নাগরিককে জোর করে তুলে নিয়ে মোবাইল কোর্ট সাজা দিতে পারে না। এই ধরনের নির্যাতন বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত ৩৩ (গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ), ৩৫ ও ৩৫ (৫) (বিচার ও দণ্ড সম্পর্কিত রক্ষণ) এবং ৪৩ (গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ), অনুচ্ছেদে বর্ণিত সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী এবং মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ এর ধারা- ৬ এর লঙ্ঘন এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে হুমকি।
বিশেষ করে কোনও নাগরিকের বাড়িতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে গ্রেফতার করা আইনের লঙ্ঘন। ব্লাস্ট এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকের ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের ক্ষমা প্রার্থনা এবং যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছে ব্লাস্ট। পাশাপাশি ফৌজদারী কার্যবিধি ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রদত্ত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে।