এ বিষয়ে ড. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘গবেষণাটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের অধীনে ন্যাশনাল রিসার্চ ইথিক্স কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। যা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করছি অনুমোদন পেয়ে যাবো। ন্যাশনাল রিসার্চ ইথিক্স কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে বাংলাদেশে মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এবং অধিদফতরের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে উক্ত যুগান্তকারী শনাক্তকরণ পদ্ধতিটির ঘোষণা প্রদান করবে।’
অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও বাংলাদেশ এই তিন দেশের তিনটি গ্রুপ একসঙ্গে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করছি আমরা সফল হবো। আমাদের পুরো কোঅর্ডিনেশন করছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল। প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতিগুলোর সীমাবদ্ধতা অতিক্রম “ওভারকাম” করে নতুন পদ্ধতি নিয়ে আসতে কাজ করছি, যার মাধ্যমে খুব দ্রুত ও নির্ভুলভাবে রোগটাকে শনাক্ত করা যাবে। আর বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল এর সম্মানিত পরিচালক ডা. মাহমুদ-উজ-জাহান এর সময়োপযোগী উদ্যোগের ফসল এই কর্মসূচি।’
এই পদ্ধতির কার্যকারিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই পদ্ধতিতে ব্যবহৃত রিএজেন্টগুলো আধুনিক ন্যানো প্রযুক্তি দক্ষতা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, আর এর মাধ্যমেই এটি নিশ্চিতভাবে কোভিড-১৯ শনাক্ত করবে। একে অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপের দেশগুলো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়াতে এই কিট ইতোমধ্যে কোভিড-১৯-এর ভাইরাসকে ডিটেক্ট করতে সক্ষম হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে এর ভিত্তিতে আমরা দেশে এটা প্রয়োগ করবো না। বাংলাদেশের রোগীদের নিয়ে এর পরীক্ষা করা হবে, তখনি বোঝা যাবে এটা সঠিকভাবে ডিটেক্ট করছে কিনা।’ একই সঙ্গে বর্তমানে প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির সঙ্গেও ক্রসচেক করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ইউজেফ একটি রিসার্চ গ্রুপ, যারা বেসিক এবং হেলথ সায়েন্স নিয়ে গবেষণা করে। এ গ্রুপ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে সারাদেশে কাজ করছে। এর নেতৃত্বে আছেন অধ্যাপক ড. আবু সাদাত নোমান, ড. মোশারফ হোসেন, ড. শ্রীকান্ত চৌধুরীসহ অন্য গবেষকরা।