পূর্ব রাজাবাজারের লকডাউন: বেড়েছে প্রশাসনের কঠোরতা

প্রবেশ-বের হওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ আরও কঠোর হয়েছে প্রথম দুই দিনের তুলনায় তৃতীয় দিন কঠোরভাবে পালিত হয়েছে পূর্ব রাজাবাজারের লকডাউন। শুক্রবার (১২ জুন) সকাল থেকে লকডাউন এলাকায় প্রশাসনের কড়াকড়ি দেখা গেছে। কোনও কারণেই কাউকে ওই এলাকা থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। ওই এলাকায় ত্রাণ সহায়তা ও বিশেষ ভ্যান সার্ভিসের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে। সরেজমিন এমন চিত্র দেখা গেছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকাল ৪টার দিকে গ্রিন রোড সংলগ্ন আইবিএ হোস্টেলের পাশের সড়কের প্রবেশপথে কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে প্রশাসনকে। এ সময় ব্যারিকেডের সামনে রাজাবাজার এলাকায় প্রবেশ প্রত্যাশী বেশ কিছু বাসিন্দাকে দেখা গেছে। তবে তাদের কাউকে লকডাউন এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা কঠোর অবস্থানে ছিলেন। অহেতুক অজুহাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের বের হতে দেওয়ায় কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবককে সতর্ক করতে দেখা গেছে তাদের।

ব্যারিকেডের সামনে রাজাবাজার এলাকায় প্রবেশ প্রত্যাশী বেশ কিছু বাসিন্দাকে দেখা গেছেরাতে ৯টার দিকেও একই চিত্র দেখা গেছে। পূর্ব বাজারের পেছনের মসজিদ গলির পেছনের অংশে দেখা গেছে, সেখানকার সড়কের পাশের পথের বাঁশের বেড়া টিন দিয়ে শক্ত করা হয়েছে। এর ভেতর দিয়ে মালামাল আদানপ্রদানের তেমন একটা ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ব্যারিকেড বা দেয়াল টপকে বের হওয়ারও সুযোগ নেই। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, লকডাউন পরিস্থিতি দেখাশোনার জন্য মাঝে মধ্যে ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসাররাও আসছেন।

সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল বলেন, ‘আগে এই বেড়ার ফাঁক দিয়ে মানুষ বের হয়ে চলে আসতে পারতো। বাজার-সদায়ও আনা-নেওয়া করতে পারতো। এখন সেই সুযোগ নেই। কেউ বের হতে পারছেন না। অনেক কড়াকড়ি রয়েছে। মিডিয়ায় নিউজ হওয়ার কারণে সবাই এখন কঠোর হয়েছে। ’

সসজানতে চাইলে স্থানীয় কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান ইরান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আগের চেয়ে এখন অনেক কঠোর অবস্থানে রয়েছি। কাউকে বের হতে ও প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ভ্যান সার্ভিসের মাধ্যমে খাদ্যপণ্যের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের হটলাইন চালু রয়েছে। যাদের ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন আমরা তাদের বাসায় বাসায় পৌঁছে দিচ্ছি। আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রেখেছি। তবে এখনও সিটি করপোরেশন থেকে ত্রাণ সামগ্রী আসেনি।’

ডিএমপির তেঁজগাও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘কয়েক জায়গায় বাসিন্দারা গেট টপকে বের হয়ে যাওয়ার খবর শুনেছিলাম। এরপর আরও কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছি। লকডাউন বাস্তবায়নে যা কিছু করা দরকার আমরা সেসব কিছু করতে প্রস্তুত আছি।’