করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের ৪৫টি এলাকা ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে লকডাউনের সিদ্ধান্ত হলেও এখনও কোনও ‘মেসেজ’ বা তথ্য পায়নি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এদিকে শুধু লকডাউনের তালিকায় থাকা এলাকার নাম পেয়েছে উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), এখন জায়গাগুলোর ম্যাপ চাইছে সংস্থাটি। । এদিকে সুনির্দিষ্ট কোনও কার্যপরিধি, ম্যাপ ও নির্দেশ না পাওয়ায় লকডাউন কার্যকর করা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি দুই সিটি করপোরেশন।
করপোরেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলাকা ভিত্তিক ‘রেড জোনের’ নাম প্রকাশ করা হলেও বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর কর্মপরিধি এখনও জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস গণমাধ্যমেও কথা বলেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘লকডাউন করতে হলে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করতে হবে। এতে কারা কতটুকু কাজ করবেন, কার ক্ষমতা কতটুকু থাকবে তার বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। এরপর সেই অনুযায়ী সবাই কাজ করবে।’
এর আগে, রবিবার (১৪ জুন) সিপাহীবাগ এলাকার ঝিলে মাছ অবমুক্ত করার সময়ে লকডাউন প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে দক্ষিণের মেয়র বলেন, ‘আমরা প্রজ্ঞাপন ও তাতে যে বিধি রয়েছে; সেগুলো পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকার কাউন্সিলর, সংসদ সদস্য এবং অন্যান্য সবার সঙ্গে মতবিনিময় করে ব্যবস্থা নেবো। মানুষকে আমরা যদি ১৪ থেকে ২১ দিন নিজ ঘরে রাখতে পারি, তাহলে সংক্রমণটা স্থিমিত করতে পারবো। কারণ সংক্রমণ যখন বেড়ে যায়, তখন হু হু করে বাড়তে থাকে। এটাকে যদি কিছুটা হলেও স্থিমিত করা যায়, তাহলে এর কার্যকারিতা আস্তে আস্তে কমে যায়। সেই ধারণা থেকেই বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের মতামতের ভিত্তিতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এখানে যেহেতু সারা বাংলাদেশেকে সাধারণ ছুটি বা লকডাউনের আওতায় আনা সম্ভব নয়, তাই আমরা সীমিত আকারে এলাকাভিত্তিক সেই কাজটি করতে পারি। আমি আশা করবো জনগণ এটাতে সায় দেবেন।’
জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রেড জোন হিসেবে আমাদের ১৭টি এলাকার বিষয়ে কিছুক্ষণ আগে একটি মেইল পেয়েছি। আমি বলে দিয়েছি- আমাদের যেসব এলাকা লকডাউনের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে, সেসব এলাকার বিস্তারিত ম্যাপিং দিতে হবে। তা না হলে কোন এলাকার কতটুকু আমরা লকডাউনের আওতায় আনবো, তা নিয়ে সমস্যা হবে। আর এখানে শুধু এলাকার নাম বলা হয়েছে। এখন ধরুন আমাদের উত্তরা এলাকা, এই এলাকা কিন্তু অনেক বড়, এজন্য আমি বিস্তারিত ম্যাপ দিতে বলেছি। তাহলে তার ওপর ভিত্তি করে আমরা আমাদের স্থানীয় কাউন্সিলরসহ যাদের সমন্বয়ে লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে, তাদের নির্দেশনা দিতে পারবো।’
এ ব্যাপারে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. এমদাদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এখনও কোনও মেসেজ পাইনি। যেখানে কোনও মেসেজ পাইনি, সেখানে লকডাউন নিয়ে আর কী বক্তব্য দেবো?’
এদিকে রেড জোনের নাম প্রকাশ করা হলেও সেই তালিকা এখনও একটি সিটি করপোরেশন না পাওয়ায় সমন্বয়হীনতাকেই দায়ী করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান। তিনি বলেন, ‘লকডাউন নিয়ে আমাদের হ-য-ব-র-ল অবস্থা হয়ে গেছে। এখানে মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। আর এটা পরিষ্কার, প্রথম অবস্থায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত না করায় সফলতা আসেনি। আমরা দেখেছি গাজীপুরের মেয়র এক পর্যায়ে এসে বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তালিকা প্রকাশের আগে এলাকাভিত্তিক কীভাবে লকডাউন করা হবে, তার বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা দরকার ছিল। তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কর্মপরিধি প্রকাশ করা হলে এই সমস্যা হতো না। এখন মানুষও সতর্ক হয়ে যাবে। সে তার নিজের সুবিধার জন্য অন্যত্র চলে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। এছাড়া এই কাজে যারা নগর বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা দরকার ছিলো।’
আরও খবর: রেড জোনে ঢাকার ৪৫ এলাকা