রাষ্ট্রদূতের টুইটে শহীদুল আলমের মন্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা

ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের টুইট ও আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের মন্তব্য বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্সন ডিকসনের টুইটার পোস্টে কমেন্ট করে আবারও সমালোচনার মুখে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ছবি প্রকাশ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা এক টুইটবার্তায় আলোকচিত্রী শহীদুল আলম বিতর্কিত ‘মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের’ ক্রসফায়ারের তালিকার হিসাব উপস্থাপন করে সেই পরিবারগুলোর শোকের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

সমালোচকরা বলছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো একজন নেতার হত্যাকাণ্ডে শোক প্রকাশ করে দেওয়া পোস্টে তার এ ধরনের কমেন্ট উদ্দেশ্যপ্রনোদিত। তিনি এইসব বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিচার চাইতেই পারেন কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের শোক জ্ঞাপনের পোস্টে তা শোভন নয়। সমালোচকরা এটিকে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বলেও দাবি করেছেন।

তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন লেখক ও সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি লেখক ও সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আহারে পোদ্দারসকল শেখ মুজিব না জন্মালে এই পঞ্চাশ বছর কতবার পশ্চাৎদেশ থেকে খাবলা খাবলা মাংস উঠিয়ে নিত প্রভূরা সেটা কখনও হিসেব করেন কি?একটি স্বাধীন দেশে বসে নিশ্চয়ই শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যার দিনে আরেকজনের সম্মান প্রকাশের নীচে মন্তব্য করতে সুশীল বুরখা পরাই যায়— কিন্তু তার নীচে আপনার ন্যাংটো কুৎসিৎ চেহারাটা লুকোবেন কী দিয়ে? লজ্জা শব্দটা অভিধান থেকে কবে বাদ দিয়েছেন জানি না, তবে মানুষ হিসেবে নিজের চেহারা আয়নায় আপনি/আপনারা দেখেন কী করে?’

শহীদুল আলম প্রশ্ন তুলেছেন, এই নিহতদের জন্য শোক প্রকাশে বছরের কোন দিন নির্ধারিত? গবেষক ওমর শেহাব তার টুইটের কমেন্ট শেয়ার করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিষয়টি দুঃখজনক ও অরুচিকর উল্লেখ করে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জাতির জনকের স্মৃতিতে বিদেশি দূতাবাসের এ ধরনের পোষ্ট কূটনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ। জাতির জনককে সপরিবারে হত্যার শোক প্রকাশ করা হচ্ছে যেখানে সেখানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়কে ব্যবহার কুরুচিপূর্ণ। আমি মনে করি বর্তমান রাজনীতিতে বর্তমান মোকাবেলা করতে হবে। বর্তমানে গুম খুন ও যে রাজনৈতিক নিপীড়নের কথা বলা হচ্ছে সেটার দায় বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নিতে হবে, তাদের সমালোচনা করা যেতেই পারে। কিন্তু কূটনৈতিক পরিসরে জাতীয় দিবসের শোকের পোস্টে বর্তমানকে জড়িয়ে কাদা মাখামাখি করা কুরুচিপূর্ণ।

ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাদিম মাহমুদ ফেসবুকে নাদিম মাহমুদ লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারসন ডিকসন জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশে ফিরে আসার আগে লন্ডনে এক সংবাদ সম্মলনের ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে বহুজনের কমেন্টের মধ্যে আমাদের দেশের এক বুদ্ধিজীবী এই কমেন্টটি করেছেন। সেখানে এই ব্যক্তি জাতীয় শোক দিবসের সাথে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের একটি তালিকা শেয়ার করে এইসব হত্যার শোক দিবস দাবি করেছেন।

আমি অবশ্যই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করি না, কিন্তু তাই বলে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডকে অন্য দশটা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা কখনওই কাম্য নয়।... আমরা অবশ্যই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করবো, তবে সেইসব খুনের সঙ্গে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডকে একই কাতারে দেখার মানসিকতা অসুস্থতার মধ্যে পড়ে।...’

এ প্রসঙ্গে শহিদুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কারও পরিবারের আপনজন হারানোর শোক কেমন আমি তা পুরোপুরি বুঝতে পারি। আমার উদ্বেগের জায়গা হলো বাংলাদেশের মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে মারা যাচ্ছে এবং গুম হচ্ছে প্রতিনিয়ত, যা ধারাবাহিকভাবে সরকারই করছে। এটাও শোকের একটি কারণ হওয়া উচিত।