সমালোচকরা বলছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো একজন নেতার হত্যাকাণ্ডে শোক প্রকাশ করে দেওয়া পোস্টে তার এ ধরনের কমেন্ট উদ্দেশ্যপ্রনোদিত। তিনি এইসব বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিচার চাইতেই পারেন কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের শোক জ্ঞাপনের পোস্টে তা শোভন নয়। সমালোচকরা এটিকে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বলেও দাবি করেছেন।
শহীদুল আলম প্রশ্ন তুলেছেন, এই নিহতদের জন্য শোক প্রকাশে বছরের কোন দিন নির্ধারিত? গবেষক ওমর শেহাব তার টুইটের কমেন্ট শেয়ার করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিষয়টি দুঃখজনক ও অরুচিকর উল্লেখ করে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জাতির জনকের স্মৃতিতে বিদেশি দূতাবাসের এ ধরনের পোষ্ট কূটনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ। জাতির জনককে সপরিবারে হত্যার শোক প্রকাশ করা হচ্ছে যেখানে সেখানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়কে ব্যবহার কুরুচিপূর্ণ। আমি মনে করি বর্তমান রাজনীতিতে বর্তমান মোকাবেলা করতে হবে। বর্তমানে গুম খুন ও যে রাজনৈতিক নিপীড়নের কথা বলা হচ্ছে সেটার দায় বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নিতে হবে, তাদের সমালোচনা করা যেতেই পারে। কিন্তু কূটনৈতিক পরিসরে জাতীয় দিবসের শোকের পোস্টে বর্তমানকে জড়িয়ে কাদা মাখামাখি করা কুরুচিপূর্ণ।
আমি অবশ্যই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করি না, কিন্তু তাই বলে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডকে অন্য দশটা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা কখনওই কাম্য নয়।... আমরা অবশ্যই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করবো, তবে সেইসব খুনের সঙ্গে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডকে একই কাতারে দেখার মানসিকতা অসুস্থতার মধ্যে পড়ে।...’
এ প্রসঙ্গে শহিদুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কারও পরিবারের আপনজন হারানোর শোক কেমন আমি তা পুরোপুরি বুঝতে পারি। আমার উদ্বেগের জায়গা হলো বাংলাদেশের মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে মারা যাচ্ছে এবং গুম হচ্ছে প্রতিনিয়ত, যা ধারাবাহিকভাবে সরকারই করছে। এটাও শোকের একটি কারণ হওয়া উচিত।