অনুমোদনহীন এভেরুশের শাখা নিয়ে বিরোধ, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা

downloadঅনুমোদনহীন শাখা ক্যাম্পাস নিয়ে বিরোধের কারণে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল এভেরুশ ইন্টারন্যাশনালের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। স্কুলটির মিরপুর শাখা পরিচালকের অভিযোগ— শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এতে মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ওই শাখার শতাধিক শিক্ষার্থীর লেখাপড়ায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, জুনিয়র ক্যামব্রিজ বা সমমানের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলটির নিবন্ধন থাকলেও বর্তমানে তারা প্রথম শ্রেণি থেকে  ‘ও’ লেভেল পর্যন্ত পাঠদান পরিচালনা করছে। জানা গেছে, ২০২০ সালে শিক্ষা বোর্ডের অমুমোদন ছাড়াই ‘ও’ লেভেল পরীক্ষার ব্যবস্থা করে প্রতিষ্ঠনটি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। এরপর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়।  

সম্প্রতি প্রকাশিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের নিবন্ধনের তালিকায় ১১০টি স্কুলের নাম রয়েছে। এর মধ্যে এভেরুশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নাম নেই। তবে ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর থেকে জুনিয়র ক্যামব্রিজ বা সমমানের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলটিকে নিবন্ধন দেওয়া হয়। মিরপুরের রূপনগর শাখার শাখা পরিচালক জেড এ রানা বলেন, “প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মূল ক্যাম্পাসেরই অনুমোদন নেই। এছাড়া কোনও শাখার জন্যও অনুমোদন নেওয়া হয়নি। অনুমোদন ছাড়াই ২০২০ সালে ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা হয়েছে।”

বিষয়টি স্বীকার করে এভেরুশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘আমরা দুইটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করেছে। ’

নিবন্ধনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ‘প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নিবন্ধন রয়েছে। পরের ধাপের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা আছে। ’

এদিকে রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর শাখা ক্যাম্পাসটি বন্ধ করে দিয়ে আবারও  নতুন  একটি শাখা খোলার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় রূপনগর শাখা ক্যাম্পাসের পরিচালক জে এম রানার। তিনি জানান, করোনার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সুযোগে অনলাইনে কেন্দ্রীয়ভাবে ক্লাস করানোর নামে এই ক্যাম্পাসটি বন্ধ করে দিয়ে নতুন আরেকটি ক্যাম্পাস খোলা হচ্ছে। অথচ রূপনগর ক্যাম্পাসসহ কোনও শাখার অনুমোদন নেওয়া হয়নি। আবারও অনুমোদন না  নিয়ে আরও একটি ক্যাম্পাস খোলার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এতে মিরপুর শাখা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সমস্যার মধ্যে পড়েছি।’

তবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুর রহমান সোহাগ  বলেন, ‘মিরপুর শাখার পরিচালক নিয়ম-কানুন না মানায় তাকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।  শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।’

কর্তৃপক্ষের এই টানাটানিতে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। কেউ কেউ মূল ক্যাম্পানের অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হলেও অনেকেই যুক্ত হননি। এমনকি তারা জানেনও  না  যে প্রতিষ্ঠানে তারা পড়ালেখা করছেন— সেই প্রতিষ্ঠানের সরকারি কোনও নিবন্ধন নেই। এসব ঘটনায় শতাধিক শিক্ষার্থীর  ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এভেরুশের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব

এভেরুশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মিরপুরের শাখা খুলতে জে এম রানার সঙ্গে চুক্তি করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনিসুর রহমান সোহাগ। ওই চুক্তিতে শর্ত রয়েছে শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনা করতে ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগের সামর্থ্য থাকতে হবে। শাখা পরিচালনার যাবতীয় খরচ জে এম রানাকে বহন করতে হবে। শাখায় নিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতন স্কুল থেকে পরিশোধ করা হবে, কিংবা দ্বিতীয় পক্ষই তা বহন করবে। 

এভেরুশ মিরপুর শাখার পরিচালক জেএম রানা অভিযোগ করে বলেন, ‘চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ৮০ লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। এখন স্কুলটিতে শিক্ষার্থী বেশি হওয়ার কারণে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সে কারণে চুক্তিভঙ্গ করে ছাত্রদের প্রধান ক্যাম্পানের মাধ্যমে অনলাইনে ক্লাস করাচ্ছে নোটিশ দিয়ে। এই ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা অধিদফতরে লিখিত আবেদন জানিয়েছি। অন্যদিকে ঘটনা জানিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে বাধ্য হয়েছি।’