‘শ্রম ভবন অক্যুপাই’ কর্মসূচি পোশাক শ্রমিকদের

001‘শ্রম ভবন অক্যুপাই’ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনরত ড্রাগন কারখানার পোশাক শ্রমিকরা। তারা জানান, অবিলম্বে ড্রাগন গ্রুপের শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকাসহ সব আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করার দাবিতে সোমবার (৩১ আগস্ট) থেকে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিজয় নগরে অবস্থিত শ্রম ভবনে লাগাতারভাবে অবস্থান আন্দোলন পরিচালনা করা হবে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ড্রাগন গ্রুপের শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, সার্ভিস বেনিফিট, অর্জিত ছুটির টাকাসহ সকল আইনানুগ পাওনা পরিশোধ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা।

ড্রাগন গ্রুপ শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘ঢাকার মালিবাগে অবস্থিত ড্রাগন গ্রুপের ড্রাগন সোয়েটার লিমিটেড এবং ইম্পেরিয়াল সোয়েটার লিমিটেডের মালিকপক্ষ করোনার সুযোগ নিয়ে এপ্রিল মাস থেকে কারখানা বন্ধ রেখেছে। শ্রমিকের সার্ভিস বেনিফিট, বেতন থেকে প্রতি মাসে প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ কেটে রাখা মোট বেতনের ৭ শতাংশ ও তার সঙ্গে আইন অনুযায়ী মালিকের জমাকৃত সমপরিমাণ অর্থ, অর্জিত ছুটির টাকা এবং দুই মাসের বকেয়া বেতন ইত্যাদি পাওনা পরিশোধে অস্বীকার করে শ্রমিকদের বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মালিকপক্ষ স্থায়ী শ্রমিকদের বাদ দিয়ে একই ভবনে ভিন্ন একটি কারখানার নামে ঠিকা ভিত্তিতে অস্থায়ী শ্রমিক দিয়ে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালাচ্ছে। শ্রমিকরা তাদের পাওনার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।’

শ্রমিকরা আইনানুগ পাওনার দাবিতে গত কয়েক মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করে আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘শ্রম মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের ঢাকা জেলা ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দিনের পর দিন ধর্ণা দেওয়া হয়েছে। সরকার কর্তৃক গঠিত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি সংকটের সুরাহা করতে কয়েকবার সভায় বসলেও মালিক পক্ষকে আইন প্রতিপালনে বাধ্য করতে পারেনি। বরং সরকারি কর্মকর্তাদের কেউ কেউ তাদের দায়িত্ব ভুলে মালিকের সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলেন।’

লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি মালিকের বাসভবন ঘেরাও, বিজিএমইএ ঘেরাও এবং গণভবন অভিমুখে ভুখা মিছিল কর্মসূচি পালন করারও ঘোষণা দেয় লিখিত বক্তব্যে শ্রমিকরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম, জাতীয় শ্রমিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতা আমির হামজা খান, গার্মেন্ট টিইউসি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, শ্রমিকনেতা রিফাত হাবিব প্রমুখ।