রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টায় উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর থেকে ডিএনসিসির বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে মেয়র এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন, সড়ক মেরামত, চলমান উন্নয়নমূলক কাজ, অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্ত, অবৈধ সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড অপসারণসহ বিভিন্ন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর থেকে শুরু হয় এই পরিদর্শন। এরপর মিরপুর, কচুক্ষেত, মগবাজার, গুলশান হয়ে বনানীতে গিয়ে শেষ হয়।
সকাল সাড়ে ৭টায় মেয়র উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে যান। সেখানে একটি বাড়ির সামনে অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে নির্মাণসামগ্রী রাখায় আতিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। এরপর উত্তরা পশ্চিম থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় থানার পাশে ডাম্পিং করে রাখা গাড়িতে জমা পানিতে এডিস মশার লার্ভা হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করেন। থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে তিনি এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
কালশীতে প্রেস ব্রিফিংয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এরপর পরিদর্শনে বের হলে সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট, ট্রাক, লোডার, বুল্ডোজার ইত্যাদি থাকবে। সড়ক ও ফুটপাতের ওপর নির্মাণসামগ্রী, দোকান বা অন্য কিছু পেলেই তা সঙ্গে সঙ্গে নিলামে বিক্রি করা হবে।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন সুন্দর ফুটপাতের ওপর নির্মাণসামগ্রী রেখে তা নষ্ট করছে। এই শহরে এগুলো বরদাশত করা হবে না। ১ অক্টোবর থেকে আমরা ঝুলন্ত তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজস্বের আওতা বাড়ানোর জন্য চিরুনি অভিযান শুরু করা হবে। আমরা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে যারা ট্যাক্সের আওতায় আসেননি, তাদের ট্যাক্সের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেবো। আমরা আজ শুরু করলাম, এটি চলমান থাকবে।’
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘কালশীতে একসময় অনেক জলাবদ্ধতা হতো, এখন আর সেরকম নেই। একইভাবে বনানী এয়ারপোর্ট রোডের জলাবদ্ধতাও নিরসন করা হয়েছে। আশকোনায় নতুন খাল খনন করা হয়েছে। মেট্রোরেল প্রজেক্টের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনেরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
এরপর গুলশান-১ ও গুলশান-২ এর মাঝে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সামনের ফুটপাত দখল করে রাখা নির্মাণসামগ্রী দেখে গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন মেয়র। এ সময় এভাবে ফুটপাত দখল করে বালু রাখায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নিন্দা করেন মেয়র। কাউকে না পাওয়ায় বালু জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সব অবৈধ বিজ্ঞাপন বিলবোর্ড অপসারণ করার নির্দেশ দেন মেয়র।
পরিদর্শনকালে ডিএনসিসির সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর সাইদুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল ইসলাম, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবদুল হামিদ মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।