সকালে নগরীর বাসাবো বাস-বে এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অফিসগামী মানুষের যথেষ্ট ভিড় রয়েছে। বাসের সংখ্যাও যথেষ্ট বেশি। কিন্তু খুব একটা মানুষকে বাসে উঠতে দেখা যায়নি। তারা বলছেন, করোনাকালে গণপরিবহন তাদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে পারেনি। কোথাও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার বা স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। তাছাড়া প্রতি আসনে যাত্রী পরিবহন করলে সামাজিক দূরত্বও নিশ্চিত হয় না। ভাড়া নিয়েও সবসময় হেল্পারদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করতে হয়।
বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির এলাকার বাসিন্দা আসলাম উদ্দিন বলেন, আমার একটু বয়স হয়েছে। আগামী বছর চাকরি থেকে অবসরে যাবো। যেভাবে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে, তা আমি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করি। তাই রিকশা বা সিএনজি করেই যাতায়াত করছি।
বাংলামোটর এলাকায় দেখা গেছে, রিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেলের সংখ্যাই বেশি। সড়কে চলাচলরত অধিকাংশ বাসের আসন ফাঁকা। যাত্রীরাও পুরো বাস জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসছেন।
কথা হয় মিরপুর থেকে শিকড় পরিবহনে করে আসা যাত্রী মামুনের সঙ্গে। তিনি অভিযোগ করেন, পরিবহন কর্মীদের ব্যবহার ভালো না। মিরপুর ১০ নম্বর থেকে এখানে আসতে ভাড়া নিয়ে অন্তত ১৫ জন যাত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করেছে কন্ডাক্টর। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি দাবি করছে তারা। অনেকে বাকবিতণ্ডা এড়াতে দাবি করা ভাড়াই দিয়ে দিচ্ছেন।
আশরাফ উদ্দিন নামে অপর এক যাত্রী বলেন, বাসের প্রতি মানুষে আস্থা নেই বললেই চলে। করোনাকালে যেসব নিয়ম মানার কথা ছিল, তার ধারে কাছেও তারা নেই। তাই সাধারণ মানুষ স্বল্প দূরত্বের পথ হলে হেঁটেই অফিস করছেন। না হয় সিএনজি, রিকশা বা মোটরসাইকেলে করে যাতায়াত করছেন। একান্ত বাধ্য না হলে মানুষ বাসে উঠছে না।
জানতে চাইলে বিআরটিএ’র উপপরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মোহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতিদিন আমাদের ১০-১২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। জেল-জরিমানার পাশাপাশি তারা যানবাহনের কাগজপত্রও জব্দ করছেন বলে জানান তিনি।