নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে গিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নয় কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এর বাইরে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ২৪৬ জন। তাদের মধ্যে ছয় জন এখন হাসপাতালে রয়েছেন। আর এখন আইসোলেশনে রয়েছেন ১৪৮ জন। পিডিবির সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই অন্য অফিসগুলোতে ছুটি থাকলেও বিদ্যুতের অফিসগুলো খোলা ছিল। শুরুতে বিল আদায় করতে না গেলেও এখন বিল আদায়সহ অন্যান্য কাজ চলছে। এর বাইরে প্রতিদিন দাপ্তরিক এবং বাইরে লাইন মেরামতসহ বিদ্যুতের কর্মীদের মাঠে নানা কাজ করতে হয়েছে। এতে শুধু তারা নয়, ঝুঁকিতে রয়েছে তাদের পরিবারও। পিডিবির মতো অন্য আরও অনেকগুলো সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মারাও গেছেন। বিদ্যুৎ বিভাগ এইসব কর্মীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করতে বলেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. সুলতান আহমেদ সম্প্রতি বলেছেন, ‘ঝুঁকি থাকার পরেও আমাদের কর্মীদের মাঠে রেখেছি। যাতে সাধারণ মানুষের সেবা পেতে কোনও সমস্যা না হয়। এতে অনেকে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।’
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র বলছে, জরুরি সেবা খাত হিসেবে বিদ্যুৎ-জ্বালানির সেবা কখনও বন্ধ ছিল না। কিন্তু অন্যদের আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যু যেভাবে আলোচনায় এসেছে সেভাবে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি বিভাগের কর্মীদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি।
পিডিবি জানায়, তাদের যে নয় জন কর্মী মারা গেছেন তারা হলেন– সহকারী হিসাব মহাব্যবস্থাপক মো. সানোয়ার হোসেন। তিনি ঢাকায় মহাব্যবস্থাপক (হিসাব)-এর দফতরে কাজ করতেন। নেত্রকোনার লাইনম্যান মো. আব্দুল হক, গাজীপুরের নিরাপত্তা প্রহরী এমরানুল ইসলাম, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের উচ্চমান সহকারী মো. ইউসুফ, লক্ষ্মীপুরের উচ্চমান সহকারী মো. আনোয়ার হোসেন, ঢাকার কম্পিউটার অপারেটর মো. আবুল হোসেন, শাহজিবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রের সিনিয়র কর্মকর্তা (ভান্ডার) এস এম মাহবুব মোরর্শেদ, কাটাখালি ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আইয়ুব আলী, ভেড়ামারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. শফিকুর রহমান চৌধুরী।
মার্চের শুরুতেই দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর আসে। এরপর সরকার দীর্ঘ সময় সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণ করে করোনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু এতে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। এখন অনেকটা স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরেছে সরকারি অফিসগুলো।
বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘করোনার শুরুতেই কর্মীদের নিরাপত্তাসহ অন্য সব বিষয় দেখার জন্য একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির কাছে নিয়মিতই করোনা আক্রান্ত এবং কর্মীদের অবস্থা জানাতে বলা হয়েছে।’
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, সরকার শুরুতেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য ক্ষতিপূরণের নীতি ঘোষণা করেছে। ইতোমধ্যে যারা মারা গেছেন তাদের ক্ষতিপূরণও দিয়েছে সরকার। যেহেতু পিডিবির কর্মীরাও সরকারি চাকরি করেন, তাদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। তবে করোনার ভয় উপেক্ষা করে যেসব বিদ্যুৎকর্মী মানুষের সেবায় নিজেদের নিবেদিত করেছেন তাদের আলাদা করে শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টিও চিন্তা করা হচ্ছে।