রিকশা-ভ্যান নিবন্ধন আবেদনে ডিএসসিসির আয় দুই কোটি টাকা

রিকশা

রিকশা-ভ্যানসহ বিভিন্ন অযান্ত্রিক যানবাহন নিবন্ধনের আবেদন থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা আয় করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। গেলো মাসের ১৩ তারিখ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত এ নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করে সংস্থাটি। বর্তমানে ফরম যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এরপর দেওয়া হবে নিবন্ধন।

অযান্ত্রিক যানবাহনকে (রিকশা-ভ্যান-ঠেলাগাড়ি-টালিগাড়ি ও ঘোড়ার গাড়ি) শৃঙ্খলায় আনার লক্ষ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম হাতে নেয় ডিএসসিসি। ১৩ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব যানবাহনের নিবন্ধন, নবায়ন ও মালিকানা পরিবর্তনের জন্য ফরম বিক্রি করে সেবা সংস্থাটি। এই ১৮ দিনে সংস্থাটি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৯৭টি ফরম বিক্রি করে। প্রতিটি ফরম ১০০ টাকা করে বিক্রি করা হয়। যাতে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব খাতে জমা পড়েছে ১ কোটি ৮৩ লাখ ৯৯ হাজার ৭০০ টাকা।

ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অযান্ত্রিক যানবাহনগুলোর নিবন্ধন ফরম বিক্রি শেষ হয়েছে। ফরম জমা নেওয়াও হয়েছে। এখন যাচাই-বাছাইয়ে যারা যোগ্য বিবেচিত হবে তাদেরকে নির্ধারিত ফি জমা দান সাপেক্ষে নিবন্ধন দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ফরম ১০০ টাকা করে বিক্রি করা হয়। যাতে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব খাতে জমা পড়েছে ১ কোটি ৮৩ লাখ ৯৯ হাজার ৭০০ টাকা।

ডিএসসিসির সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি অঞ্চল এবং ভান্ডার ও ক্রয় বিভাগ ফরম বিক্রি করে। এর মধ্যে অঞ্চল-১ ৫৮ হাজার, অঞ্চল-২ ১৮ হাজার ৫০০, অঞ্চল-৩ ২৪ হাজার ৯০০, অঞ্চল-৪ ৫২ হাজার ৫৯৭, , অঞ্চল-৫ ১৮ হাজার ৭০০ এবং ভান্ডার ও ক্রয় বিভাগ ১১ হাজার ৪০০ ফরম বিক্রি করে।

জানা গেছে, ১৯৮৬ সাল থেকে গত ৩৪ বছরে এসব অযান্ত্রিক যানবাহনের নতুন লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রাখে সিটি করপোরেশন। বর্তমানে দুই সিটিতে লাইসেন্সধারী রিকশা ও ভ্যানের সংখ্যা ৭৯ হাজার ৫৫৪টি । যদিও বাস্তবে এই সংখ্যা ১০ লাখের বেশি বলে ধারণা সংস্থাটির। তাই এসব অযান্ত্রিক যানবাহনকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করে ডিএসসিসি।

ডিএসসিসির সূত্র বলছে, এবার অযান্ত্রিক যানবাহন নিবন্ধন এমনভাবে দেওয়া হবে যাতে এক লাইসেন্সে দুইটি গাড়ি চালানোর কোনও সুযোগ থাকবে না। কারণ অতীতে দেখা গেছে, এই লাইসেন্স একাধিক গাড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই এবার লাইসেন্সে বারকোড দেওয়া হবে। নিবন্ধন কার্যক্রম শেষে অবৈধ যেসব অযান্ত্রিক যানবাহন থাকবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে।

অযান্ত্রিক যানবাহনের নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছিলেন, এই ঢাকা শহরে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় রিকশা ও অযান্ত্রিক যানবাহনের কোনও নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। এখন নিবন্ধিত অযান্ত্রিক যানবাহন ছাড়া আর কোনও অযান্ত্রিক যানবাহনকে ঢাকা শহরে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ধীর গতির যানবাহনগুলো যেমনি নিবন্ধনের আওতায় আসবে তেমনি নিয়মের আওতায়ও আসবে। অযান্ত্রিক যানবাহনগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় এনে সুনির্দিষ্টভাবে তাদের সড়ক নির্ধারণ করে দেবো এবং চালকদেরকেও নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। ফলে অযান্ত্রিক যানবাহনগুলো পর্যায়ক্রমে সুশৃঙ্খলভাবে যাতায়াত ব্যবস্থার আওতায় আসবে।