কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাড়ে ১২ হাজার পদ সৃষ্টির আদেশ জারি যেকোনও সময়

শিক্ষা মন্ত্রণালয়দেশের ৪৯টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের জন্য ভাইস প্রিন্সিপাল, চিফ ইনসট্রাক্টর, ইনসট্রাক্টরসহ ক্যাডার ও নন-ক্যাডার ১২ হাজার ৬০৭টি স্থায়ী পদ সৃষ্টির আদেশ যেকোনও সময় জারি করা হবে। আদেশ জারি হলে শিগগিরই নিয়োগ করা হবে এসব জনবল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জানতে চাইলে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ অতিরিক্ত সচিব ড. মো. ওমর ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পদ সৃষ্টির জিও (সরকারি আদেশ) তৈরি করে এনরোলমেন্টের জন্য অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বিভাগ থেকে ফেরত আসলেই জিও জারি করা হবে।’
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোয় প্রথমে ১ হাজার ২৪৪টি ক্যাডার এবং ১২ হাজার ৭২৮টি নন-ক্যাডার পদ মিলে মোট ১৩ হাজার ৭২টি পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতার পর অর্থ বিভাগ ১২ হাজার ৬০৭টি পদ সৃষ্টির সম্মতি দেয়। অর্থ বিভাগের সম্মতির পর কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ে পদ এনরোলমেন্টের জন্য জিও তৈরি করে পাঠায়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়া পদগুলোর মধ্যে ৪৯টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ১ হাজার ৬১টি ক্যাডার পদ। আর নন-ক্যাডার পদ রয়েছে ১১ হাজার ৫৪৬টি। এর মধ্যে রয়েছে ভাইস প্রিন্সিপাল (জাতীয় বেতন কাঠামোর পঞ্চম গ্রেড) পদ ২০টি, চিফ ইনসট্রাক্টর (টেকনিক্যাল, গ্রেড-৬) পদ ১৬৯টি, চিফ ইনসট্রাক্টর (নন-টেকনিক্যাল, গ্রেড-৬) পদ ৫৭টি, ইনসট্রাক্টর (টেকনিক্যাল, গ্রেড-৯) পদ ৫১০টি এবং ইনসট্রাক্টর(নন-টেকনিক্যাল, গ্রেড-৯) পদ ৩০৫টি।
গত বছর পদ সৃষ্টির জন্য কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্মতির পর প্রস্তাব পাঠানো হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সম্মতি দিলে তা পাঠানো হয় প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে। গত ২০ আগস্ট প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি পদ সৃষ্টির অনুমোদন দেয়।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও কর্মমুখী মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এনরোলমেন্টের হার প্রতি বছরই বাড়ছে। ফলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে জনবল বাড়ানো খুবই জরুরি ছিল।