সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটি ঘটনার বীভৎসতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে আর একটি ঘটনা। দেশের প্রায় প্রতিটি নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত অথবা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সংগঠিত হচ্ছে। নারীর ওপর সহিংসতা ও ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির খুব একটা নেই। ফলে বিচারহীনতার বিষয়টি এখন সমাজে গেড়ে বসেছে। শাসকদের প্রশ্রয় ও বিচারহীনতার ফলে ধর্ষকরা বেপরোয়া হয়ে পড়ছে।
তারা আরও বলেন, নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা প্রতিরোধ করতে গেলে সমাজে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের জাগরণ ঘটাতে হবে।
তাদের দাবিগুলো হলো—সকল ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা দূর করা; পুলিশ নয় বিচার বিভাগীয় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ধর্ষণের তদন্ত করা; বিচারের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা; ধর্ষিতার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত; মামলার শুনানিকালে জেরার নামে ধর্ষণের শিকার যারা তাদের পুনরায় নির্যাতন না করা; ধর্ষণের প্রমাণের জন্য ডিএনএ টেস্ট এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা; বিজ্ঞাপনে, নাটকে, সিনেমায় নারী দেহের প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে; ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিলে নারীর প্রতি কটূক্তি ও অশ্লীল মন্তব্য নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে আইন করার এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিশ্চিত করা।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদ সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহবান হাবিব বুলবুল, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন প্রমুখ।