ঢামেকের ওসিসিতে চিকিৎসাধীন ২৩ জনের ১৭ জনই শিশু!

ওসিসিপল্লবীর কালশীতে নির্যাতনের শিকার ১৩ বছরের কিশোরীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকালে ঢামেকের ওসিসির সমন্বয়ক ডা. বিলকিস বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। আজকে এই সংশ্লিষ্ট যে রুটিন টেস্ট আছে সেগুলো দিয়েছি। রিপোর্ট এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে এমনিতে কিশোরীটি সুস্থ আছে।

ডা. বিলকিস বেগম আরও বলেন, ঢামেকের ওসিসি সেন্টারে আটটি বেড রয়েছে। তবে আজকের হিসাব মোট ২৩ জন ভিকটিম ভর্তি আছেন। এরমধ্যে ১৭ জনই শিশু। যাদের বয়স চার থেকে ১৫ বছর। তাদের সবাই নানাভাবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তবে গুরুতর কেউ নেই, মোটামুটি সবাই সুস্থ।

এদিকে পুলিশ জানায়, মিরপুরের পল্লবীর কালশী এলাকায় তিন দিন আগে নোয়াখালী থেকে বাবার কাছে বেড়াতে এসেছিল ১৩ বছরের এক কিশোরী। সেখানে আগে থেকে তার বোনও থাকতো। তিনি একজন গার্মেন্টকর্মী। গত রবিবার রাতে বাবা আর বোনের সঙ্গে অভিমান করেই বাসা থেকে বেরিয়ে যায় মেয়েটি। এরপর বাসা থেকে দূরে একটি দোকানের পাশে বসে ছিল সে। পরে বাসায় ফিরতে চাইলেও বাসা চিনতে না পারায় ফেরা হয়নি তার। এ সময় আবদুর রহমান মিন্টু ও আলামিন নামের দুই বখাটে তরুণ তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কালশী এলাকার মেসে নিয়ে যায়। এরপর মিন্টু খবর দেয় তার বখাটে বন্ধু হৃদয় খান ও মোহাম্মদ জুয়েলকে। তারা একত্রিত হওয়ার পর মেয়েটিকে পরিকল্পিতভাবে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর শারীরিক নির্যাতন করা হয়। ভোরে অচেতন ওই কিশোরীকে মেসে রেখেই পালিয়ে যায় বখাটেরা। জ্ঞান ফেরার পর মেয়েটির কান্নাকাটি শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রথমে মিন্টু ও পরে তার সহযোগীদেরকে গ্রেফতার করে। জড়িত চার জনই মাদকাসক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।