বাবার খোঁজে ঢাকায় এসে নিখোঁজ দুই সন্তান, সেই ‘অপরাধে’ বাবা জেলে

ভাটারা থেকে শিশু দুটিকে উদ্ধার করা হয়

ফরিদপুর থেকে ঢাকায় বাবাকে খুঁজতে এসে নিখোঁজ হয় দুই শিশু। এই অপরাধে তাদের বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) শিশু দুটিকে উদ্ধারের পর জানতে পেরেছে তাদের বাবা অপহরণ করেনি। শিশু দুটিকে এক রিকশাওয়ালা পরিবার গোপনে তাদের কাছে রেখেছিল।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল্লাহ হেল বাকী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে ফরিদপুর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হয় মাহিয়া আক্তার পিংকি (১৩) ও তার ভাই মো. বিপ্লব বেপারী (১০)। তাদের মা বিউটি বেগম গত দেড় বছর ধরে জর্ডান প্রবাসী। বিউটি জর্ডানে চলে যাওয়ায় শিশুদের বাবা পিকুল বেপারীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়। এ কারণে শিশু দুটি তাদের খালা সালেহা বেগমের সঙ্গে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার শোভারামপুর গ্রামে থাকতো।

খালা সালেহা বেগম শিশু দুটিকে বকাঝকা দেওয়ায় ২১ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে। আর বাড়ি ফেরেনি। তারা ঢাকায় বাবা ও দাদার খোঁজে চলে আসে। কিন্তু তারা বাবার বাসা খুঁজে বের করতে পারেনি বলে জানায় সিআইডি।

শিশু দুটি নিখোঁজ হওয়ায় তার খালা সালেহা বেগম ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে শিশু দুটির নিখোঁজের ঘটনায় তাদের বাবা পিকলু বেপারীকে সন্দেহ করা হয়। পরবর্তীতে ফরিদপুর জেলা পুলিশ পিকুল বেপারীকে গ্রেফতার করে।

সিআইডি জানায়, শিশু দুটি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাদের বাবাকে একবার ফোন দিয়েছিল, কিন্তু তাদের বাবা কোনও কথা বলেননি। এতে জেলা পুলিশের আরও সন্দেহ হয়। তবে শিশুদের বাবাকে গ্রেফতারের পর ২০ দিনেও তাদের কোনও হদিস না পাওয়ায় ঢাকায় সিআইডির সহযোগিতা চায় জেলা পুলিশ। এরপর সিআইডি তদন্ত শুরু করে।

এরপর ১১ অক্টোবর থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে রাজধানীর ভাটারা থেকে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের একটি টিম।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সিআইডির সিনিয়র এএসপি আমিনুল হক বাপ্পি বলেন, ‘শিশু দুটি জানতো তাদের দাদা ও বাবার বাসা ভাটারা এলাকায়। কিন্তু তারা বাসা চিনতো না। বাসা খুঁজতে গিয়ে তারা হারিয়ে যায়। গুলশানে গিয়ে তারা কান্নাকাটি করেছিল। এ সময় তাদের এক রিকশাচালক পরিবার নিয়ে যায়। রিকশাচালক পরিবারের ফোন নম্বর থেকে একবার শিশুদের বাবার ফোন নম্বরে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাস করেছিল—এটা কি ফরিদপুর? ২১ সেকেন্ড কথা বলে তারা। এরপর ওই নম্বরটি বন্ধ হয়ে যায়। ওই নম্বরের সূত্র ধরে শিশু দুটিকে ভাটারা থেকে উদ্ধার করা হয়।’

সিআইডি রিকশাওয়ালা পরিবারটিকে জেরা করছে। কেন তারা শিশু দুটিকে তাদের পরিবার বা পুলিশের কাছে দিলো না, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানার চেষ্টা করছে।

সিআইডির সন্দেহ, শিশু দুটি এখান থেকে পাচার বা অন্য খারাপ কিছু ঘটতে পারতো। তার আগেই তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।

শিশু দুটিকে ফরিদপুর জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। তবে তাদের বাবা এখনও জেলে।