মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান শুরু

IMG_20201014_091034মা ইলিশ রক্ষায় দেশজুড়ে ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত  ইলিশ ধরা, কেনা-বিক্রি, পরিবহন বন্ধ থাকবে। ইতিমধ্যে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা নিশ্চিত করতে অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। মৎস্য অধিদফতর বলছে, এ সময়ে কারও কাছে একটি ইলিশ পাওয়া গেলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ আইন অমান্যকারীকে ১-২ বছরের জেল অথবা ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজধানীর সোয়ারীঘাট মাছের আড়ৎ ও তৎসলগ্ন বিভিন্ন নদী এলাকায় সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে কোস্টগার্ডের ঢাকা জোনাল টিম। দেশজুড়ে ইলিশ মাছের প্রজনন ক্ষেত্র কেন্দ্রিক বিভিন্ন নদীগুলোতে একযোগে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়।

কোস্ট গার্ড ঢাকা জোনের কমান্ডার এ টি এম রেজাউল হাসান বলেন, ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সর্বমোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সময়ে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে নানা কার্যক্রম পরিচালনা চালানো হবে। এছাড়া, মাছের আড়তগুলোতেও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কারণ ব্যবসায়ীরা মাছ না কিনলে, মাছের যোগান বন্ধ হবে। জেলেরা মাছ ধরতে উৎসাহী হবেন না। এ সময়ে বিভিন্ন নদী এলাকায় কোস্টগার্ডের বিশেষ টহল পরিচালতি হবে। যদি কেউ আইন অমান্য করে ইলিশ ধরেন, কেনাবেঁচা বা পরিবহন করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মৎস্য অধিদফতরের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক সৈয়দ মো. আলমগীর বলেন, এই ২২ দিন ইলিশ কেনা বেচার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ আইন অমান্যকারীকে ১-২ বছরের জেল অথবা ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
আর এ সময়কালে যেসব জেলেরা মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকবেন তাদেরকে সরকারের কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেককে ২০ কেজি করে চাল প্রদান করা হবে।

এদিকে কোস্টগার্ড জানায়, 'মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২০' এর আওতায় কোস্ট গার্ড তৎপর ভূমিকা পালন করছে। বাহিনীটির দায়িত্বাধীন এলাকায় জনসচেতনতা তৈরি করতে ইতোমধ্যে লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং, মাইকিংসহ নানাভাবে প্রচারনা চালানো হয়েছে। অভিযান সফল করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কর্তৃক একক ও যৌথভাবে বিভিন্ন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এই অভিযানের আওতায় কোস্ট গার্ডের ৫টি ঘাঁটি, ২৩টি ছোট-বড় জাহাজ এবং ৫৮টি স্থায়ী ও ৪টি অস্থায়ী কন্টিনজেন্টের সদস্যরা শতাধিক বোটের মাধ্যমে নদীতে সার্বক্ষণিক টহলে নিয়োজিত থাকবে।