এদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ১০টি পর্যবেক্ষক সংস্থার বিষয়ে আপত্তি জানানো হলেও কমিশন তার থেকে দু-একটি বাদে সব পর্যবেক্ষণের অনুমোতি দিয়েছে বলে জানা গেছে।কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হচ্ছে তাদের নিবন্ধিত সংস্থাগুলোকে তারা অনুমোদন দেবে।
আর এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সেযব সংগঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে, কমিশনে চিঠি দিয়েছে তার বেশিরভাগই ইসিতে নিবন্ধিত। তবে, আওয়ামী লীগের আপত্তির তালিকায় থাকা অধিকারসহ দুইটি সংস্থাকে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে রবিবার পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ১০টি সংস্থার পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়। এগুলো হলো ডেমোক্রেসি ওয়াচ, খান ফাউন্ডেশন, মানবিক সাহায্য সংস্থা, লাইট হাউস, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ-বামাসপ, রাইটস যশোর, মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা-মওসুস, অধিকার, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন ও ন্যাশনাল ইয়ুথ ফোরাম অব বাংলাদেশ।
এদিকে রবিবার পর্যন্ত বিদেনি কোনও সংস্থার অনুমোদনের খবর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনের সহকারী পরিচালক গণসংযোগ আরাফাত আরা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তারা এখন পর্যন্ত ২৯টি সংস্থাকে অনুমোতি দিয়েছেন। এদের সবই দেশীয় সংস্থা।
যেসব সংগঠনের পর্যবেক্ষকরা পৌর ভোট পর্যবেক্ষণের অনুমোতি পেয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে- জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদ-জানিপপ, ওয়েভ ফাউন্ডেশন, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন, ডেমোক্র্যাসিওয়াচ, মানবিক সাহায্য সংস্থা, খান ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, ফেমা, ব্রতী, গণকল্যাণ সংস্থা-জিকেএস, রুরাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস-আরডিএ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি-বিডিএস, নবলোক, উত্তরণ, কোস্ট ট্রাস্ট, ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-এনডিপি, অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডি, সলিডারিটি, বাঁচতে শেখা, রূপান্তর, ডাক দিয়ে যাই, অ্যাসোসিয়েশন ফর কো অরডিনেট অপারেশন ইন রুরাল ডেভেলপমেন্ট-অ্যাকর্ড, ইন্সটিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-আইইডি ইত্যাদি।
কমিশন কর্মকর্তারা জানান, দলীয় পরিচয়ে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহ দেখায়নি উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানির ঢাকাস্থ দূতাবাস, ইউএনডিপি ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রায় ১৫০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এসব দেশ বিরত থাকলেও ওই নির্বাচনের পরের মাসেই অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে ঢাকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপান দূতাবাস পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে।
এদিকে অধিকারকে রবিবার পর্যন্ত পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ না জানানোর কারণে সংস্থাটি থেকে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়। সংস্থাটির পরিচালক এএসএম নাসির উদ্দিন এলান স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংস্থাটি ৫০টি পৌরসভায় পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন করেছে উল্লেখ করে এবারের পৌর নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে কিনা- তা লিখিতভাবে জানাতে অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাসির উদ্দিন এলান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা কয়েকদিন আগেই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু কী কারণে আমাদের অনুমোতি দেওয়া হচ্ছে না সেটা স্পষ্ট করা হচ্ছে না। আমরা রবিবার কমিশনকে একটি চিঠি দিয়েছি।
অধিকার ইসির নিবন্ধিত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা দাবি করে তিনি বলেন, এর আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও আমাদের এভাবে কালক্ষেপন করে অনুমোতি দেওয়া হয়নি। এবারও সেই কালক্ষেপনের লক্ষণদেখতে পাচ্ছি।
নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, কমিশন যাচাই-বাছাই করছে। যাদের অভিজ্ঞতা আছে, তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমোতি দেওয়া হবে। বিএনপির পক্ষ থেকেও বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষক সংস্থার বিষয়ে আপত্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
/এএইচ/