রাজধানীর ডেমরার ১০ তলা পাশা টাওয়ার আবাসিক ভবন হলেও পুরোটাই লাইটের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। স্থানীয়রা বলছেন, আবাসিক ভবনে এমন দাহ্য পদার্থের যে একটি গুদাম রয়েছে তা তারা জানতেন না। পাশা এনার্জি লিমিটেডের মার্কেটিং প্রধান ইমরান হোসেন বলেন, ‘এই ভবনের প্রথম থেকে দশতলা পর্যন্ত এলইডি লাইট, টিউবলাইট, টিউব শেড, বক্স এগুলো রাখা ছিল। চীন থেকে কাঁচামাল এনে এখানে ফিটিং করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হয়। এ ভবনে আনুমানিক ১০ কোটি টাকার মালামাল রয়েছে।’
ভবনটির পাশে টিনশেড বাসায় থাকেন আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম এটা গুদাম হিসেবে ব্যবহার করে। কিন্তু এর প্রতিবাদ কার কাছে জানাবো তা-ই জানা নেই আমাদের। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে আমার বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
সরেজমিনে যা দেখা যায়
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ঈশা খাঁ রোডে পর পর তিনটা ১০ তলা ভবন রয়েছে। রাস্তার পাশের প্রথম ভবনটি পাশা টাওয়ার। যার পাঁচতলা থেকে ১০ তলা আগুনে পুড়ে কালো হয়ে আছে। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় এখনও লাইটের মালামাল অরক্ষিত অবস্থায় স্তরে স্তরে সাজানো রয়েছে। সিঁড়িঘর থেকে শুরু করে বাথরুম পর্যন্ত সব জায়গায় মালামালে ভর্তি। পঞ্চমতলা থেকেই আগুনে পুড়ে গেছে। পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশমতলায় এনার্জি ও এলইডি লাইটের সরঞ্জাম মজুত ছিল। যা পুড়ে ছাই হয়ে আছে। সেগুলো থেকে আগুনের উত্তাপ এখনও ছড়াচ্ছে।
ত্রুটিপূর্ণভাবে নির্মিত ভবন
পরপর তিনটি ১০ তলা ভবন থাকলেও মাঝখানে পাঁচ হাত জায়গাও ছাড় দেয়নি কেউ। ভবনের সিঁড়িগুলো বেশ সরু। ছয় বছর ধরে বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে ব্যবহার করলেও ইমারজেন্সি এক্সিট ছিল না। বৈদ্যুতিক তার এখনও ভবনে অরক্ষিত অবস্থায় ঝুলছে।
বৃহস্পতিবার ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ত্রুটিপূর্ণ ভবন নির্মাণের ফলেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কষ্ট হয়েছে।’
ক্ষয়ক্ষতি
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে এখনও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে পাশা এনার্জি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (মার্কেটিং) শেখ মোহাম্মাদ ইমদাদ হোসেন জানান, ভবনের ক্ষতি বাদে শুধু লাইটিংয়ের মালামালে তিন থেকে চার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ভবনটি তৈরি করতে ১৫ কোটি টাকার মতো খরচ হয়েছিল। এখন পাঁচতলা থেকে ১০ তলা পর্যন্ত নতুন করে মেরামত করতে হবে। সেখানে প্রায় ৪/৫ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।
পাশা টাওয়ারের কেয়ারটেকার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ছয়তলার আগুন লাগে। পুলিশের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করি। ফায়ার সার্ভিস খবর পাওয়ার পরেও ঘণ্টাখানেক দেরি করে আসতে। তারপর থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু হয়।’
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বিকালে লাগা ওই আগুন ১০ ঘণ্টা চেষ্টা করে নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ১৫০ জন সদস্য। এছাড়াও র্যাব, পুলিশ, রেড ক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউট সদস্যরাও কাজ করেছেন। ভবনের ছয়তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।