চট্টগ্রামের বাঁশখালী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার অঞ্চলে ১১টি বাহিনীর ৩৪ জন জলদস্যু অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের উপস্থিতিতে বাঁশখালী সরকারি আলাওল কলেজ মাঠে তারা আত্মসমর্পণ করেন।
এই প্রসঙ্গে র্যাব বলছে, হাজার হাজার উপকূলবর্তী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কতিপয় চিহ্নিত জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন। জলদস্যুদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হবেন তারা। এর মধ্যে দিয়ে উপকূল অঞ্চলে শান্তির সুবাতাস বইবে।
র্যাব সদর দফতরের লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, 'সুন্দরবন মহেশখালীতে একাধিকবার আত্মসমর্পণের পর আমরা এবার আরেকটি আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান আয়োজন করছি। ১১টি বাহিনীর ৩৪ জন জলদস্যু/ ডাকাত দল আত্মসমর্পণ করছেন। যাদের এর আগে আত্মসমর্পণ করা সুযোগ ছিল না, তারাই এবার সুযোগ পাচ্ছেন। এই আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে এই উপকূল এলাকা জলদস্যু মুক্ত হবে।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, 'আত্মসমর্পণ করা এসব জলদস্যুর অধিকাংশের বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে। হত্যা ও ধর্ষণ মামলা ছাড়া অন্য মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রত্যাহার করা হবে। তাছাড়া যারা জলদস্যু তৈরির পেছনে মাস্টারমাউন্ড হিসেবে কাজ করেছেন, সেসব মাস্টারমাইন্ডদের আমরা নজরদারিতে রেখেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।'
আত্মসমর্পণ করেছেন যারা: বাইশ্যা বাহিনীর মো. আব্দুল হাকিম ওরফে বাইশ্যা ডাকাত (৫২), মো. আহামদ উল্লাহ (৪২), মো. আব্দুল গফুর ওরফে গফুর (৪৭), মো. দিদারুল ইসলাম ওরফে পুতিক্যা (৩২), মো. জসিম উদ্দিন (২৬), মো. মিজানুর রহমান (২৩), আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে বাইশ্যা (২৯), মো. বেলাল মিয়া (৩০), মো. আব্দুল হাকিম বাক্কু (৩৫), মো. রশিদ মিয়া (৩৬)। খলিল বাহিনী বাদল বাহিনীর কুতুবদিয়া থানার আব্দুর রহিম (৬৪), মো. মাহমুদ আলী প্রকাশ ভেট্টা, মো. ওবায়দুল্লাহ (৩৬), মো. ইসমাইল (২৪) সাহাবুদ্দিন ওরফে টুন্নু (৩২)। রমিজ বাহিনীর মো. ইউনুছ (৫৬), মো. তৌহিদ ইসলাম (৩৪), মো. ফেরদৌস (৫২), মো. রেজাউল করিম (৪০)। বাদশা বাহিনীর মো. নিজাম উদ্দিন ভান্ডারী, মো. ইউনুস (৫১), কামাল উদ্দিন (৪৭), মো. আব্দু শুক্কুর, ইউনুচ (৪২)। জিয়া বাহিনীর সাহাদাত হোসেন (দোয়েল) (৪১), মো. পারভেজ (৩৩), মো. নাছির (৫১), আমির হোসেন (৪৮), মো. সাকের (৪০)। কালাবদা বাহিনীর মো. সেলিম বাদশা (৩৪), মো. আব্দুল গফুর ওরফে গফুর, মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (৩১), মো. মামুন মিয়া (২৭), মো. মন্জুর আলম (৪২)।
অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার: এই ৩৪ জন জলদস্যু আত্মসর্মপণের সময় তারা বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। বাইশ্যা ডাকাত বাহিনী ৩ জন এলজি- ৪১ টি, থ্রি কোয়াটার এলজি ১৯টি, বিদেশি পিস্তল ১টি, রিভলবার ১টি, এসবিবিএল ৫টি, এসবিবিএল বন্দুক ১৬টি, ডিবিবিএল বন্দুক ১টি, ওয়ান শুটারগান ১টি, থ্রি কোয়াটার ওয়ান শুটারগান ১টি, এসবিবিএল ওয়ান শুটারগান ১টি, পাইপগান ১টি, এয়ারগান ২টি এবং .১২ বোরের গুলি ৮৮৬ রাউন্ড এবং .২২ বোর রাইফেলের গুলি ১,১৭০ রাউন্ড জমা দিয়েছে।
র্যাব বলছে, ২০০৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত র্যাব চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৪৮ জন জলদস্যুকে আটক করে। উদ্ধার করে ৭৯৭ টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৮৮৪২ রাউন্ড গোলাবারুদ। এছাড়াও ২০১৮ সালে ৪৩ জন জলদস্যু র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে।