গৃহশ্রমিকদের অধিকার-মর্যাদা নিশ্চিতে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বান

৩০গৃহশ্রমিকদের অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি গৃহশ্রমিকদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, সচেতনতা বৃদ্ধি, আইএলও কনভেনশন অনুসমর্থন ও গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালাকে আইনে পরিণত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) এর ‘সুনীতি প্রকল্পের’ উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘গৃহশ্রমিকের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং নির্যাতন প্রতিরোধ: বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয়’  শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এ আহ্বান জানান।

বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান শিরীন আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী আবুল হোসাইন। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মুজিবুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শামসুন্নাহার ভূঁইয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিলস মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিলসের যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ প্রতিনিধি শাকিল আখতার চৌধুরী, সুনীতি প্রকল্পের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ও অভিনেত্রী দীপা খন্দকার প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মুজিবুল হক বলেন, ‘গৃহশ্রমিকদের একটি বড় অংশ শিশু। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, শিশুদের কোনও ধরনের শ্রমে নিযুক্ত করা যাবে না। যারা শিশুদের গৃহশ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেন, তাদের ভাবতে হবে এটা ঠিক করছেন কিনা?’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৫ সালে গৃহশ্রমিকদের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হলেও তারা এখনও নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে।’ গৃহশ্রমিকদের নির্যাতন বন্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শামসুন্নাহার ভূঁইয়া বলেন, ‘গৃহশ্রমিকরাও আমাদের মতোই মানুষ। কিন্তু তাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘গৃহশ্রমিকদের নির্যাতন বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘গৃহশ্রমিকরা প্রতিনিয়ত আমাদের সহযোগিতা করেন বলেই আমরা যারা বাইরে কাজ করি, তা ঠিক মতো কাজ করতে পারছি। তারপরও তারা অবহেলিত, নির্যাতিত।’ নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের মতো গৃহশ্রমিকদেরও নিয়োগপত্র, নির্দিষ্ট কর্ম ঘণ্টা এবং নির্দিষ্ট মজুরি থাকা দরকার।’

বিলস যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, ‘গৃহশ্রমিকদের অধিকারের সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্বাস্থ্যের বিষয়েও সকলকে সচেতন হতে হবে। জিডিপিতে তাদের যে অবদান তার তুলনায় তারা মর্যাদা পান না।’

গৃহশ্রমিকরা আমাদের পরিবার ও সমাজেরই অংশ হিসেবে আমাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে উল্লেখ করে স্কপ প্রতিনিধি শাকিল আখতার চৌধুরী বলেন, ‘কোভিড-১৯ সেটাকে আরও ভালো করে দেখিয়ে দিয়েছে।’ গৃহশ্রমিক হয়রানি বন্ধে আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থনের দাবি জানান তিনি।’

কোভিড-১৯ সময়ে গৃহশ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, ‘গৃহশ্রমিকদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে। কিন্তু এর বিচার হচ্ছে না। গৃহশ্রমিকদের শিশু সন্তানদের রাখার জন্য সরকারি খরচে সারাদেশে ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করা দরকার।’