ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রবিবার রাজধানীর মতিঝিল থেকে হেমায়েতকে গ্রেফতার করা হয়েছে।সূত্রটি জানান, এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের মোবাইল ফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এদের মূলহোতা হেমায়েত উল্লাহ। তার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিল থেকে বিবিএ ও এমবিএ করেছেন। সিম্ফনি মোবাইল কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
সূত্রটি আরও জানায়, হেমায়েত লন্ডনে তার এক বন্ধুর মাধ্যমে বিদেশের একটি মোবাইল অ্যাপস ও সফটওয়্যার সেবাদানকারী ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খোলেন বাংলাদেশি এজেন্ট হয়ে। তার বন্ধু পে-পলের মাধ্যমে ওই ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষকে টাকা পরিশোধ করতেন। এরপর বাংলাদেশের বিভিন্ন মোবাইল ব্যবহারকারীদের কাছে তিনি ক্রেডিট হিসাবে এসএমএস বিক্রি করতেন। এক ক্রেডিট ৫০ টাকা দরে গ্রাহকরা ১০০ এসএমস পেত। এর আগে গ্রাহকদেরও অ্যাকাউন্ট খুলে দিতেন হেমায়েত। এই সুযোিই নিয়েছে প্রতারক ও জঙ্গিরা। হুমকিদাতারা অন্যের মোবাইল নম্বর দিয়ে (স্ফুফিং) এই ওয়েবসাইটটিতে নিবন্ধন করেছে প্রথমে। এরপর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হুমকি দিয়েছে।
ডিবি সূত্রটি জানায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ০১৭১৩০৬৭৫৮৬ নম্বর থেকে আইএস বিডি পরিচয়ে এক সাংবাদিকের মোবাইলে হত্যার হুমকি দিয়ে একটি এসএমএস আসে। এই ঘটনায় তেজগাঁও থানা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ওই সাংবাদিক। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে হুমকি দেওয়া হয়। এরপর সেপ্টেম্বরে মুনতাসির মামুন, শাহরীয়ার কবীর ও মো. জাফর ইকবালকে জঙ্গি সংগঠনের বিভিন্ন নামে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। গত নভেম্বরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আনিসুজ্জামানকে হত্যার হুমকি দেয় এই চক্রটি। এরপর গোয়েন্দারা চক্রটিকে গ্রেফতারে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ নভেম্বর সিলেট থেকে আব্দুল হক (৪৫) নামে এক হুমকিদাতাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এই ঘটনায় তেজাগাঁও থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর ২৪)। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল হক জানিয়েছেন, বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ দেশের ১৫৩ জনকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন তিনি। হকের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ। তিনি শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নিজেকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও আইএস পরিচয়ে সবাইকে হুমকি দিতেন। আব্দুল হক ডিবিকে ওই ওয়েবসাইটের কথা জানায়। এরপর ডিবি এর বাংলাদেশি এজেন্টে হেমায়েত উল্লাহকে খুঁজতে থাকে। কিন্তু হক গ্রেফতার হওয়ার পর হেমায়েত মোবাইল বন্ধ করে গা-ঢাকা দেয়। রবিবার রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে হেমায়েতকে গ্রেফতার করা হয়। তেজগাঁও থানার ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে পাঁচদিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সূত্রটি আরও জানান, হেমায়েত উল্লাহার কাছ থেকে আরও ৫৮ জনের তালিকা পাওয়া গেছে। এরা সবাই তার গ্রাহক। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে ডিবি। এ ছাড়াও তেজগাঁও থানায় দায়ের করা মামলায় আব্দুল হক ও তার সহযোগী আমিনুর রহমানসহ পাঁচজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এবিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. যায়েদ শাহরীয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হেমায়েতকে গ্রেফতারের পর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, বাড়তি আয়ের জন্য ওই সাইটের এজেন্ট হয়ে কাজ করেছে। আমরা তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তার কাছ থেকে আরও ৫৮টি মোবাইল নম্বর পেয়েছি, যারা তার কাছ থেকে এসএমএস কিনত। তাদের বিষয়েও খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’
/এআরআর/এফএ/