পেশাভিত্তিক প্রশাসন ও মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি

প্রকৃচি’র সংবাদ সম্মেলনপেশাভিত্তিক প্রশাসন ও মন্ত্রণালয় গঠন করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডার ও ফাংশনাল সার্ভিসের প্রায় দুই লাখ সদস্যের সংগঠন প্রকৌশলী-কৃষিবিদ-চিকিৎসক (প্রকৃচি)। মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটির উত্থাপিত অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে আছে - প্রশাসনের সব স্তরে জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে, সকল দফতর ও অধিদফতরের নিয়মিত শূন্য পদ পূরণ করাসহ প্রশাসন ক্যাডারের মতো পদোন্নতির যোগ্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশাজীবীদের পদোন্নতি দিতে হবে। একইসঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার পেশাজীবীদের সুপার নিউমারারি (সংখ্যার অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি) পদোন্নতির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, পেশাজীবী ক্যাডার পদ সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে প্রশাসন ক্যাডারের মতো আনুপাতিক হারে গ্রেড-১ ও তদানুযায়ী গ্রেড-২ ও গ্রেড-৩' এর পদ সংখ্যা নির্ধারন করে পদ সৃষ্টি করতে হবে, প্রত্যেকটি পেশার ক্যাডার সংখ্যার আনুপাতিক হারে সিনিয়র সচিব সমমান পদ সৃষ্টি করতে হবে। কয়েকটি সংস্থার শীর্ষপদ গ্রেড-১ এ উন্নীত হয়েছে, কিন্তু অন্যান্য সার্ভিসের মতো নিম্নধাপের সমপর্যায়ের পদসমূহ যথাক্রমে গ্রেড-২, গ্রেড-৩ এবং গ্রেড-৪ এ উন্নত করা হয়নি। তাই দ্রুত এসব নিম্ন ধাপের পদে গ্রেড উন্নীত করে প্রকৌশল, স্বাস্থ্য এবং কৃষি সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল অধিদফতর/সংস্থাসমূহের শীর্ষপদকে গ্রেড-১ এ উন্নীত করতে হবে। প্রশাসন ক্যাডারের মতো অন্যান্য ক্যাডারের সম-স্কেল/গ্রেডের কর্মকর্তাদের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া,  প্রতি বছর ন্যূনতম তিনবার বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি) ও এসএসবির ব্যবস্থা করতে হবে। এসএসবি ও ডিপিসি-তে টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। টেকনিক্যাল ক্যাডারে কর্মরত কর্মকর্তাদের পেশার উৎকর্ষতা সাধনে প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে টেকনিক্যাল ক্যাডার কর্মকর্তাদের উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নীতিমালা তৈরি করতে হবে। গ্রেড-৫ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের পদায়ন-এর ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট অধিদফতর/সংস্থা প্রধানদের দিতে হবে।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের সভাপতি প্রকৌশলী মো নুরুল হুদা বলেন, ইদানিং পেশাজীবীদের অবদানের স্বীকৃতির বদলে একটি মহল পেশাজীবীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত। সাম্প্রতিককালে জনপ্রশাসন পেশাজীবীদের নিয়োগ, পদোন্নতি,বদলি ইত্যাদির ক্ষেত্রে অনধিকার হস্তক্ষেপ করেই চলেছে। আজ পেশাজীবীরা বিভিন্নভাবে নিগৃহীত, অধিকার বঞ্চিত, যা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার রূপকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে বাধা সৃষ্টির এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বিশেষ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী, আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রকৃচির কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান, প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ, প্রকৌশলী এস এম মনজুরুল হক মঞ্জু, সম্মানী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. শাহাদাৎ হোসেন (শীবলু) প্রমুখ।