মামলার এক আসামির জামিন শুনানিকালে বিষয়টি নজরে এলে (৮ ডিসেম্বর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
এর আগে, ২০১৪ সালের মে মাসে চট্টগ্রামের মাঝিরহাটে একটি আবাসিক হোটেলে দু’জনকে খুন করা হয়। ওই খুনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় মনির ও লিয়াকতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর মধ্যে মনির খুনের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর আসামিদের নাম প্রকাশ করেন। এরপর ২০১৭ সালে এই মামলার বিচার শুরু হয়।
বিচার শুরুর পর রাষ্ট্রপক্ষের সাত জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। তখন মামলাটি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৪ এ বিচারাধীন ছিল। এ অবস্থায় মামলার আসামি মনির হাইকোর্টে জামিন চান। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ২০১৭ সালে আসামির জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন। একইসঙ্গে বিচারিক আদালতকে মামলাটি ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
হাইকোর্ট তার আদেশে আরও বলেছিলেন, এ মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষ যদি কোনও সাক্ষী হাজির করতে না পারে তাহলে যেসব সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে তার ভিত্তিতে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে হবে। কিন্তু উচ্চ আদালতের সেই নির্দেশনা প্রতিপালন করেননি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক।
এরপর ২০১৮ সালের অক্টোবরে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামি মনির। তখন উচ্চ আদালতের আদেশ কেন বাস্তবায়ন করা হয়নি সেই বিষয়ে চট্টগ্রামের আদালতের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এরপর আদালতের বিচারক হাইকোর্টে একটি লিখিত ব্যাখ্যা দেন। পরে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে আবারও জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামি মনির। তখন হাইকোর্ট বিচারিক আদালতকে ২০১৯ সালের ৩০ মার্চের মধ্যে মামলার বিচার সম্পন্নের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে হাইকোর্টে বিচার সম্পন্নের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সে নির্দেশের পর প্রায় দুই বছর শেষ হতে চললো, তবে হত্যা মামলার বিচার শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতের বিচারক। এরপরই উভয়পক্ষকে শুনে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট বিচারককে তলবের আদেশ দেন।