ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুসহ সকল আত্মত্যাগী ও আত্মোৎসর্গকারীর স্মরণে একটি ম্যুরাল ও ‘বিজয় বাতায়নের’ উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকালে মহান বিজয় দিবসে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে ম্যুরাল এবং ফজলুল হক মুসলিম হলে ‘বিজয় বাতায়ন’ উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।
ম্যুরালটির নাম রাখা হয়েছে ‘ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ’। এটির পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন আখতার এবং ম্যুরালটি তৈরি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক শিক্ষার্থী শিল্পী মো. গোলাম রসূল সোহাগ। আর বিজয় বাতায়নের উদ্বোধন করা হয় ফজলুল হক মুসলিম হলে। এটি পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শাহ্ মো. মাসুম।
শহীদুল্লাহ্ হলের ম্যুরালটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঘটনা ও ভাষা আন্দোলনের পটভূমি রাখা হয়েছে।
উদ্বোধনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘শহীদুল্লাহ হল প্রাঙ্গণে ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর ম্যুরাল উদ্বোধন করা হলো । এ সময়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল এ কারণে যে, মহান মুক্তিযুদ্ধ হলো পরিণতি। ৭১ সালে যে যুদ্ধটি শুরু হয়েছিল, সেটির প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে।’
তিনি বলেন, ‘১৯৪৮ সালে যখন ছাত্রনেতা শেখ মুজিব এবং তার সহকর্মীরা নানাভাবে ভাষা আন্দোলনের পটভূমি তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন এবং অবদান রাখছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় তৈরি হলো অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা। এ চেতনাকে উপজীব্য করেই বাঙালি জাতিসত্ত্বার মানুষগুলোর মধ্যেই ঐক্য তৈরি হয় এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা লাভ করি। যদিও ছোট ম্যুরালে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক পটভূমি প্রতিফলিত হয়েছে, কিন্তু এটি অল্প সময়ে অনেক কথা বলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন একটি দেখবেন, তখন মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অনুপ্রেরণা পাবেন।’
উদ্বোধনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষ্যাধক্ষ অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দীন আহমেদ, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড.নিজামুল হক ভূইয়া, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল এবং ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষকরা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আলী আকবরসহ প্রমুখ।