রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৬টি চিনিকল চালুর দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট। সংগঠনটি বলেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চিনিকলগুলো বন্ধ নয়, চিনি শিল্পের আধুনিকায়ন করতে হবে। পাটকল-চিনিকলসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিরাষ্ট্রীয়করণ করতে হবে। লুটপাট দুর্নীতি বন্ধ করে ৬টি চিনিকলে উৎপাদন চালু করতে হবে।
শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে সংগঠনের সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন বলেন, সরকার একের পর এক দেশের কৃষিভিত্তিক ভারী শিল্পগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পাটকলের পর এবার বন্ধের ফরমান জারি করা হলো রাষ্ট্রীয় চিনিকলের ওপর। এজন্য পরিকল্পিতভাবে প্রথমে এগুলোকে দুর্বল করা হয়েছে। লোকসানের দায় যথারীতি চাপানো হয়েছে চিনিকল শ্রমিক এবং আখ চাষিদের ওপর।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদশে চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) লোকসানের বোঝা কমাতে প্রাথমিকভাবে ছয়টি চিনিকল বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। বিএসএফআইসি’র পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে চিনিকলগুলোতে গত পাঁচ বছরে ৩ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। ওই ছয়টি চিনিকলে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে আখ মাড়াই বন্ধ থাকবে। এজন্য পুরানো বক্তব্যই নতুন করে দিতে শুরু করেছে যে, বিদেশি বিনিয়োগে জরাজীর্ণ কারখানাগুলো আধুনিকায়ন করে চিনির পাশাপাশি স্পিরিট, অ্যালকোহলসহ অন্যান্য উপজাত পণ্য উৎপাদনের স্বার্থে চিনিকগুলো বন্ধ করা হয়েছে।
মানববন্ধনে অন্যান্য বক্তারা বলেন, ৩ ডিসেম্বর থেকে যে ৬টি চিনিকলের উৎপাদন বন্ধ রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে তা হলো-কুষ্টিয়া, পাবনা, পঞ্চগড়, শ্যামপুর (রংপুর), রংপুর ও সেতাবগঞ্জ (দিনাজপুর) চিনিকল। এর ফলে চিনিকলগুলোতে কর্মরত ২ হাজার ৮৮৪ জন শ্রমিক কর্মচারী কাজ হারিয়ে বেকার হবে। সরকার নাগরিকদের জন্য নতুন কাজের সংস্থান না করে করোনাকালে শ্রমিক বেকার করার অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, সরকার ও বিএসএফআইসি লোকসানের যে দায় শ্রমিক ও আখ চাষির ওপর দিচ্ছে এটা চরম একটা মিথ্যাচার। বাস্তবে এর সম্পূর্ণ দায় সরকার ও বিএসএফআইসি’র দুর্নীতি, ভুলনীতি, লাটপাট আর রাষ্ট্রীয় সম্পদ গুটি কয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়ার নীতি। এখানে শ্রমিকও আখ চাষিদের বলির পাঠা বানানো হচ্ছে। শ্রমিকরা এই মিথ্যা ও জালিয়াতিপূর্ণ বক্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেবে না। মূলত, করপোরেশনের অধীনে যে ১৯ হাজার ৮৫ একর জমির এবং ২৫ হাজার কোটি টাকার পুঞ্জিভূত সম্পদ আছে তা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য যে চক্রান্ত চলছে তা আড়াল করতে এই প্রতারণামূলক বক্তব্য।
সংগঠনের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল, কোষাধ্যক্ষ জুলফিকার আলী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু নাঈম খান বিপ্লব, সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, সদস্য রতন মিয়া প্রমুখ।