চিকিৎসকদের ওপর হামলাকারীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি

জামালপুরে হামলা করা হয় চিকিৎসকদের ওপরগত ২৫ ডিসেম্বর জামালপুরের শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের ওপর হামলা করে রোগীর স্বজনরা। আর এ ঘটনায় দোষীদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন। নতুবা তারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম ও সভাপতি অধ্যাপক ডা. আ ম সেলিম রেজা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জামালপুরে শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে  জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের ওপর বর্বরোচিত ও ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়।

রোগীর অবস্থা খারাপ  জানা সত্ত্বেও স্বজনরা এলাকাবাসীকে মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে উস্কানি দিয়ে উত্তেজিত করে তোলে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা চালায়, সরকারি সম্পদ নষ্ট করে চিকিৎসকদের শারীরিকভাবে হামলা করে। তখন পুলিশ এগিয়ে না এলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সহর্কমীদের রক্ষায় এগিয়ে আসেন। সেসময় আহত হন চিকিৎসক ডা. চিরঞ্জিব এবং ডা. হাবিবুল্লাহসহ ৮ জনের বেশি ইন্টার্ন চিকিৎসক।

তখন জামালপুর সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান সহকর্মীদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন জানিয়ে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তার সামনেই পুলিশের উপস্থিতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আবারও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। তখন পুলিশ সাধারণ মানুষকে নিবৃত করার পরিবর্তে উস্কানি দেয় বলেও আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার সময় ডা. লুৎফর রহমান তাতে বাধা দিলে তাকেও শারীরিকভাবে আঘাত করতে করতে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং থানাতেও তাকে নির্যাতন চালানো হয়।

পরে সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আ ম সেলিম রেজা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনা মোকাবেলাতে চিকিৎসকেরা জীবন বাজি রেখে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সরকারি দায়িত্বরত অবস্থায় প্রকাশ্যে ও থানায় পুলিশি নির্যাতন আমাদের ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ ও হতবিহ্বল করেছে। পুলিশের উস্কানিতে চিকিৎসকদের মারধর এবং দায়িত্বরত অবস্থায় একজন সরকারি কর্মকর্তাকে নির্যাতন কোনও অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়, বরং বেআইনী।

তিনি বলেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সদর হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করে, হামলাকারীদের আইনের আওতায় না এনে, সরকারি হাসপাতাল ভাঙচুর ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টকারীদের গ্রেফতার না করে সম্পূর্ণ বেআিইনীভাবে ডা. লুৎফর রহমানসহ চিকিৎসকদের শারীরিক নির্যাতন করেছেন, থানায় ধরে নিয়ে গেছেন এবং সেখানেও নির্যাতন করেছেন।

অধ্যাপক ডা. সেলিম রেজা বলেন, দায়িত্বে অবহেলা, চিকিৎসকদের উপর বেআইনি হামলা, নির্যাতন ও অসদাচারণের জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ দায়ীদের দৃষ্টিান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে আমরা স্বাস্থ্য সার্ভিসের কর্মকর্তারা কঠোর কর্মসূচি প্রদানে বাধ্য হব- বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের সম্পদ ধ্বংসকারী দুর্বৃত্ত, দোষী পুলিশ কর্মকর্তা এবং চিকিৎসক নির্যাতনকারীদের শাস্তি না নিশ্চিত না হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার সকলকেই নিতে হবে।