সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘১৯৮৮ সালের আগে ঢাকার খালগুলো তদারকি করতো তৎকালীন ঢাকা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন। কিন্তু কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই খালগুলো ওয়াসার কাছে গেলো তার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তাই এতদিন খালগুলো রক্ষণাবেক্ষণে অনেকটা সমন্বয়হীনতা ছিল। এখন ঢাকার ২৬টি খাল ওয়াসার কাছ থেকে ডিএনসিসি এবং ডিএসসিসিকে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ওই দুটি সংস্থা করবে। এতে নগরে আর জলাবদ্ধতা হবে না।’
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় নাগরিক সেবা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। একটি একটি করে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একটা সময় সিঙ্গাপুর বা উন্নত বিশ্ব নয়, ঢাকা শহরের সৌন্দর্য নিয়েই উদাহরণ দিতে পারবেন দেশের জনগণ।’
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আজ ঢাকাবাসীর জন্য ঐতিহাসিক দিন। আশা করি আসন্ন বর্ষায় ঢাকায় আর জলাবদ্ধতা হবে না। স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর রাজনৈতিক নেতৃত্বে ওই কার্যক্রম সফল করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে জিরানী খাল, শ্যামপুর খাল, মান্ডা খাল থেকে সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। শনিবার (২ জানুয়ারি) থেকে ওই তিনটি খাল এবং দুটি বক্স কালভার্ট থেকে আবর্জনা অপসারণের কাজ শুরু করা হবে। আগামী মার্চের মধ্যে সব বর্জ্য অপসারণ করতে সক্ষম হবো। জুনের মধ্যে ডিএসসিসির কালুনগর খালসহ বাকি খালগুলো বর্জ্যমুক্ত করা হবে। বর্জ্যমুক্ত করার পর খালপাড়ের সৌন্দর্য বাড়ানো হবে। ইতোমধ্যে ৯০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। শিগগির তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব আকারে পাঠানো হবে। প্রস্তাবটি পাশ হলে নাগরিকরা এর সুবিধা পাবেন।’
ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডিএনসিসির অধীনে থাকা সবগুলো খাল তারাও পরিষ্কার করেছেন। তাই চলতি বছর নগরে জলাবদ্ধতা হবে না।’ এ ছাড়া এসব খালের সৌন্দর্য বাড়াতে তারাও প্রকল্প নিয়েছেন বলে জানান।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন– ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান, উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা ও দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী।
/এসএস/এমএএ/