কক্সবাজারের টেকনাফে লাকিংমে চাকমার হত্যা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এছাড়া ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানান তারা।
মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) এই ঘটনা প্রবাহ সরেজমিন পরিদর্শন শেষে নাগরিক প্রতিনিধি দলের উদ্যোগে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের প্রতিনিধি শাহনাজ সুমীর সঞ্চালনায় নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কুষ্টিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারহা তানজীম তিতিল। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপায়ন খীসা, এএলআরডির রফিক আহম্মেদ সিরাজী ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যাবিলন চাকমা।
সংবাদ সম্মেলনে এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামছুল হুদা বলেন, ‘গত ৪ জানুয়ারি ভিকটিমের মৃতদেহ সবার সহযোগিতায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।’
শাহনাজ সুমি বলেন, ‘সরেজমিন পরিদর্শন দলের পক্ষ থেকে ৫টি অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং এই অপরাধগুলোর ভিত্তিতে অপরাধীকে শাস্তি প্রদানের দাবি জানাই।’
অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, ‘এদেশে বহু জাতিসত্তা আছে। তারা অনেক সময় নিরাপত্তাহীনতায় থাকে। তাদের নিরাপত্তা রক্ষা করা দরকার। লাকিংমে চাকমার মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রশাসন ও র্যাবের সহযোগিতার ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে জোর করে ধর্মান্তরকরণ, অপহরণ, হত্যা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, ‘যখনই অন্য ধর্মের মানুষকে বিয়েতে বসানো হয়, তখনই ধর্মান্তকরণ ও ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদান করে বয়স লুকিয়ে ফেলার প্রবণতা আমরা দেখি, যা আইনের চোখে বড় অপরাধ।’
আরও পড়ুন: