জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদ বিলুপ্ত করে সহকারী অধ্যাপক বহাল রাখার দাবি

সদ্য প্রকাশিত সংশোধনীতে আলিম মাদ্রাসায় নতুন সৃষ্ট ‘জ্যেষ্ঠ প্রভাষক’ পদ বিলুপ্ত করে ‘সহকারী অধ্যাপক’ পদটি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন। সোমবার (১১জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।

এসময় লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব মোহাম্মদ দোলোয়ার হোসেন পাঁচটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবনাগুলো হলো— ১. গত বছরের ২৩ নভেম্বর  ‘মাদ্রাসার জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮’ এর সংশোধনী প্রকাশিত হয়। জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০১০ সালে জারি করা পরিপত্র মোতাবেক সব পর্যায়ের মাদ্রাসার প্রশাসনিক (অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার, সহ-সুপার) পদে নিয়োগে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সংশোধন পূর্বক সবার অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত করা। ২. সদ্য প্রকাশিত সংশোধনীতে আলিম মাদ্রাসায় নব সৃষ্ট জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদ বিলুপ্ত করে সহকারী অধ্যাপক পদটি বহাল রাখা। ৩. সংশোধনীতে প্রভাষক (গণিত) পদ বিলুপ্ত করে বিজ্ঞান শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই জনবল কাঠামোতে প্রভাষক (গণিত) পদ পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা। ৪. সংশোধনীতে ৫০% প্রভাষককে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই চাকরির মেয়াদ ৮ বছর পূর্তিতে সব প্রভাষকের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিসহ পর্যায়ক্রমে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ রাখা। ৫. সংশোধনীতে গ্রন্থাগারিক ও সহ গ্রন্থাগারিক পদে জেনারেল ধারায় শিক্ষিত প্রার্থীর আবেদনের সুযোগ রাখা।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা স্কুল-কলেজের আনুপাতিক হারে মাদ্রাসা জাতীয়করণ করে শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান। এছাড়া জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে উপরোক্ত প্রস্তাবনা সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংগঠনটির সভাপতি জহির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে সিনিয়র সহ-সভাপতি ফজলুল বারী হেলাল, শহিদুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ওয়ালিদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আজমসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।