ওষুধ কোম্পানি সানোফি বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীরা বলে দাবি করা হয়েছে। তাই তারা কোম্পানির কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ চান। মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক অবস্থান কর্মসূচিতে এই দাবি জানায় সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেড ওয়ার্কার্স এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন।
সানোফি বাংলাদেশের কর্মচারীরা জানান,৬২ বছর ধরে সাফল্যের সঙ্গে ব্যবসা করে আসা সানোফি বাংলাদেশ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎ করেই ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ছাড়ার। কিন্তু একটিবারও তারা বলেনি, সানোফি বাংলাদেশের এক হাজার কর্মচারীর কী হবে। ভবিষ্যতের চরম দুশ্চিন্তার কথা ভেবে রাস্তায় নামতে বাধ্য হন সাধারণ কর্মচারীরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কর্মচারীরা বলেন, তিন মাস আমাদের আন্দোলন চলে। তিন মাস পর রামপ্রসাদ ভাট ও মুঈনউদ্দীন মজুমদারের মিষ্টি কথায় ভুলে আমরা আবারও কাজে ফিরে যাই। উনারা আমাদের বলেন, ‘ব্যবসা ঠিক থাকলে, পজিটিভ এনভায়রনমেন্ট বজায় থাকলে, কোম্পানি অবশ্যই আপনাদের দাবি শুনবেন এবং আমরা চাই, সানোফি বাংলাদেশের শুভ সমাপ্তি।’ তাদের এই ধরনের আশ্বাসের বাণী শুনে আমরা কাজে ফিরে যাই। শুরু হয় আমাদের অক্লান্ত পরিশ্রম।
তারা আরও বলেন, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এপ্রিল থেকে শুরু হয় ভয়াবহ করোনাভাইরাসের আক্রমণ। আবার ব্যবসার ক্ষতি, আবারও কমে যায় আমাদের উপার্জন। কিন্তু সানোফি বাংলাদেশের সুপার সেলস কলিগ তাদের কঠোর পরিশ্রম অব্যাহত রাখে। ২০২০ সালের জুন মাসে আমরা কোম্পানির ব্যবসা ঠিক করে ফেলি। তারপর ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত আমরা কোম্পানির সেলস টার্গেট পূরণ করে দেই। শুধু তাই নয়, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা সবসময় তাদের কথা বিশ্বাস করেছি এবং কোনও ধরনের আন্দোলন আমরা করিনি। কিন্তু সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে এক মিটিংয়ে মুঈনউদ্দীন মজুমদার জানান যে, কোম্পানি কোনও ধরনের ক্ষতিপূরণ দেবে না।
তারা আরও বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীর অক্লান্ত পরিশ্রমে তিল তিল করে গড়ে উঠেছে এই প্রতিষ্ঠান। আজকে সানোফি ৪০০ কোটি টাকায় তার শেয়ার বিক্রি করে এ দেশ থেকে চলে যাচ্ছে। কিন্তু তারা তাদের কর্মীদের জন্য কোনও প্রকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে যাচ্ছে না।
কর্মচারীরা বলেন, সানোফির লোকাল এবং গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টকে এই ট্রেড ইউনিয়ন আবারও উদাত্ত আহ্বান জানাতে চায় যে, এখনও সময় আছে ট্রেড ইউনিয়নের পেশ করা আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্যাকেজ মেনে নিন। আপনারা কর্মচারীদের আমরণ অনশনে যেতে বাধ্য করবেন না।