রাজধানীর টিকাটুলি এলাকা থেকে সজীব হাসান নামে যুবকের ৫ টুকরো লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহতের খালু নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওয়ারী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে শাহনাজ পারভীনের সঙ্গে সজীবের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্প্রতি তাদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে টিকাটুলির কে এম দাস লেন একটি বাসায় ডেকে নিয়ে শাহনাজ পারভীন ছুরিকাঘাতে হত্যা করে তাকে।
এসআই বলেন, তিন দিন আগে শাহনাজ পারভীনের স্বামী জসীম উদ্দীন ওয়ারী থানায় স্ত্রী নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে টিকাটুলির ওই বাসা থেকে সজীবের মরদেহসহ শাহনাজ পারভীনকে গ্রেফতার করা হয়।
জসীমউদ্দীন স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিল কিনা বা বিষয়টি জানতো কিনা তা নিশ্চিত হতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কী কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, ঘটনার পেছনে অন্য কারও ইন্ধন রয়েছে কিনা, এ বিষয়ে জানতে পরিবারের যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে পুলিশ বলে জানায় তদন্তকারী কর্মকর্তা।
ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি স্বামী জসীম উদ্দীনকে জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করে আসছিল সজীব। সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ টাকা দাবি করায়, কৌশলে নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় সজীবকে। ছুরিকাঘাতে হত্যার পর লাশ ৫ টুকরা করে শাহনাজ পারভীন।
সজীব হাসান রাজধানীর সায়েদাবাদে শ্যামলী বাসের একটি কাউন্টারে কাজ করতেন। এছাড়াও তিনি শাহনাজ পারভীনের বুটিকসের ব্যবসায়ও সহযোগিতা করে আসছিলেন। সজীবের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে।