পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে একটি বাড়িতে তুলে নিয়ে নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং এই ভিডিও ভুক্তভোগীর পরিবার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখি চাঁদা আদায় করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ একটি চক্রকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ।
বুধবার (১০ মার্চ) বিকালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. বায়েজীদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে খিলগাঁও থানার তিলপাপাড়া এলাকার উত্তরণ ক্লাবের কাছে ভুক্তভোগী কাওসার আহমেদ রনিকে কিছু লোক জোর করে টেনে-হিঁচড়ে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখায় ও তাদের সহযোগী নারী সদস্যের সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে। তাদের দাবি করা টাকা না দিলে ধারণকৃত ভিডিও দিয়ে রনির পরিবারকে সামাজিকভাবে অপদস্থ করবে বলেও চক্রটি হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে রনি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও রকেট অ্যাপ থেকে ৯০ হাজার টাকা দেয় তাদের।
এ ঘটনায় ৮ মার্চ খিলগাঁও থানায় মামলা করেন রনি। মামলাটি তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগ। পরে চক্রের নারী সদস্যসহ সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ছয় সক্রিয় সদস্যকে ৯ মার্চ রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ বনশ্রী এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবির তেজগাঁও বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ, গাড়ি চুরি প্রতিরোধ ও উদ্ধার টিম।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- মো. বদিউজ্জামান শাহীন (৪০), মিজানুর রহমান (৪৫), মো. ফয়সাল আহম্মেদ (২৩), কামরুজ্জামান সোহেল (৩২), মো. সাইফুল ইসলাম ইমরান (৩১) ও বিথী আক্তার সোমা (২৬)।
গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের পাঁচটি এটিএম কার্ড, বাংলাদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদ মর্যাদার র্যাংক ব্যাজসহ ইউনিফর্ম, বেল্ট ও ফিল্ড ক্যাপ উদ্ধার করা হয়।
তথ্য প্রযুক্তির ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে দক্ষিণ বনশ্রী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্যদের।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ওই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা আছে বলেও জানান গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা।