প্রতিবাদে রাস্তায় একা এক মা

নাজিয়া নিগার। লেখক সাংবাদিক এই ব্যক্তির পরিচয় তিনি একজন মা। দূরের কোনও এক জেলায় অজানা মাদ্রাসায় শিক্ষকের হাতে সন্তানকে প্রহারের দৃশ্য দেখে তিনি ব্যথিত হয়ে বৃহস্পতিবার সারা দিন একটা পোস্টার হাতে শাহবাগে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

দুই সন্তানের জননী নাজিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হয়, কেন তিনি একা দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। নাজিয়া বলেন, কোন সংগঠনের ব্যানারে দাঁড়াতে গেলে সেটাকে রাজনৈতিক ইস্যু করা হয়। আমার বিবেক আমাকে মানবিক সত্তা দাঁড়াতে বাধ্য করলো। সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি প্রশ্ন রেখে গেলাম। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা কী দিচ্ছি।

ধানমন্ডি নিবাসী নাজিয়া সমাজকে যে বার্তা দিতে চান তা হলো, আমরা সবাই শিক্ষিত হয়েছি, কিন্তু মানবিক এসব ইস্যুতে কথা বলার কেউ নেই। বিবেকটা কাজ করছে না। আমাদের বিবেক মরে গেছে। আমাদের সন্তানদের কী দিচ্ছি নিজেরাও চিন্তা করতে পারছি না। মাদ্রাসার শিশুরা বেশি নিপীড়ন সহ্য করছে। এসব বন্ধ হওয়া দরকার।

সকাল ১১টায়ে পোস্টারে নিজ হাতে বার্তা লিখে শাহবাগে দাঁড়িয়ে যান নাজিয়া। পোস্টারে লেখা—মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধে আইন চাই। আমার ছেলে মরলো কেন? রাষ্ট্র তুমি জবাব দাও।’ বিকাল ৫টা পর্যন্ত সেখানে থেকে তিনি বাসায় ফিরে যান।

ছবি: জীবন আহমেদের ফেসবুক থেকে।