লেকসিটির বহুতল ভবনে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা

রাজধানীর অন্যতম সুপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প লেকসিটি কনকর্ডের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। খিলক্ষেতে অবস্থিত এই প্রকল্পের করবী ভবনের ১৪ তলায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গিজার পুড়ে এ আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে দাবি করেছে ফায়ার সার্ভিস। তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে কনকর্ডের কর্মীরা ছুটে এসে আগুন নিভিয়ে ফেলায় কোনও ধরনের ক্ষয়-ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভবনটির ১১ তলায় তারা প্রথম ধোঁয়া দেখতে পান। এরপর সে ধোঁয়া ভবনের ৫ তলা পর্যন্ত নেমে আসে। এদিকে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ায় ভবনটির বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে দুইপাশের সিঁড়ি বেয়ে নামতে থাকেন। ফলে কনকর্ডের নিরাপত্তা কর্মীদের একই সিঁড়ি দিয়ে উল্টো পথে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যেতে বেগ পেতে হয়। তাৎক্ষণিক অবহিত হয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।

ঘটনাস্থলে আগুন নেভানোর কাজ করেন লেকসিটি কনকর্ডের চেয়ারম্যান সিকিউরিটি অফিসর মো. ওমর ফারুক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনার খবর শুনে কয়েকজন সহকর্মীকে নিয়ে দ্রুত ওই ভবনে ছুটে যাই। তবে তখন সবাই পড়িমড়ি করে নামছে। লিফট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাই উঠতে আমাদের একটু সময় লাগে। এরপর ১১ তলার ভবনটিতে গিয়ে দেখি অনেক ধোঁয়া। সেখানে দুটো ফায়ার সিলিন্ডার ( ফায়ার এক্সিটিংগুইশার) নিয়ে স্প্রে করি। এগুলো প্রত্যেক ফ্লোরেই আছে। দেখি ওপর থেকে অনেক ধোঁয়া। স্প্রে করার পর ধোঁয়া ও আগুন কমে যায়। তবে ঠিক কোন জায়গায় আগুন লেগেছে তা বলতে পারবো না।’

তিনি বলেন, পরে আমরা ১১ তলা থেকে ৫ তলা পর্যন্ত ওই লাইনের প্রতিটি বাড়িতে ঢুকে স্প্রে করি। মূলত করিডোর ও ওপর-নিচের একটি কক্ষে ধোঁয়া দেখা যায়।

লেকসিটির করবী ভবনে আগুন লাগার খবরে আতঙ্কিত হয়ে নেমে আসেন অন্য ভবনগুলোর বাসিন্দারা।

এদিকে, লেকসিটির একটি ভবনে আগুন লাগার খবরে পুরো ক্যাম্পাসের সবগুলো ভবনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ছোট ছোট শিশুসহ নারী পুরুষ বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা আতঙ্কিত হয়ে নিচে নেমে আসেন। সবাই কারণ জানার চেষ্টা করেন।

ভবনটির একটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তারসহ কয়েকজন জানান, আগুন লাগার কথা শুনে দ্রুত যে অবস্থাতে ছিলেন ওই অবস্থাতেই পরিবাবের সদস্যদের নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসেন তারা। এ ঘটনায় তারা ভীষণ ঘাবড়ে গেছেন। তবে তারা জানান, ভবনটির ১১ এসবি/২ থেকে ৫ এসবি/২ পর্যন্ত প্রচুর ধোঁয়া দেখেছেন তারা।

করবী ভবনের নিচে জমায়েত লোকজন

পরে ফায়ার সার্ভিসের লিডিং ফায়ারম্যান আব্দুল মালেক নিশ্চিত করেন, আগুনের সূত্রপাত ঘটে ১৪ তলায়। ওই তলার ১৪ এসবি/২ ফ্ল্যাটে গিজার অত্যধিক উত্তপ্ত হয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে বাথরুমের পাইপ ও সংলগ্ন ফাঁকা করিডোরগুলো দিয়ে ধোঁয়া নিচে নামতে থাকে। দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলায় কোনও ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি ঘটেনি। ভবনটির নির্মাণ শৈলি ঠিক থাকায় এবং প্রতিটি ফ্লোরে প্রাথমিক আগুন নির্বাপনী যন্ত্র থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। তবে গিজারের মতো সামগ্রী পানি গরমের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া উচিত। সবার খুব সাবধান থাকা উচিত। না হলে এমন তুচ্ছ কারণে বহুতল ভবনে আগুন লেগে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।