‘যারা মেলায় আসবেন তারা অবশ্যই মাস্ক পরে আসবেন’

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সবাইকে মেলায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) কৃষ্ণ পদ রায়। তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির মধ্যে এবারের বই মেলা হচ্ছে। কাজেই যারা মেলায় আসবেন তারা অবশ্যই মাস্ক পরে আসবেন। প্রতি গেটে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা থাকবে। ’

অমর একুশে বই মেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ডিএমপির অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান তিনি।

প্রকাশক ও লেখকদের ওপর অতীতে অনেক হামলার ঘটনা ঘটেছে, এবার এরকম কোনও হামলার আশঙ্কা রয়েছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘এই বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে। বই মেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়টি মাখায় রেখে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে, তারা তথ্য সংগ্রহ করছেন।’

মেলাকে কেন্দ্র করে কোনও নাশকতার ষড়যন্ত্র কেউ করছে কিনা তাও নজরদারি করা হচ্ছে বলেও তিনি বলেন, ‘কোনও বিপর্যয় ঘটানোর জন্য কোনও গোষ্ঠী কাজ করছে কিনা সে ব্যাপারেও আমরা গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে মিলে কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি ভিন্ন সময়ে বই মেলা শুরু করছি। করোনার পরিস্থিতি মাথায় রেখেই প্রতি বছর আমাদের যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবারও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। প্রতি প্রবেশ পথে আর্চওয়ে থাকে,নির্দিষ্ট প্রবেশ পথ থাকে, নির্দিষ্ট বাহির পথ থাকে। যারা বই মেলায় আসেন তারা প্রবেশ পথে আমাদের সহযোগিতা করে থাকেন। সবার স্বার্থেই এই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে থাকি।’ 

তিনি বলেন,  ‘একটি সিসিটিভি কাভারেজ থাকে। নির্দিষ্ট সংখ্যাক প্রবেশ গেট আমরা চিহ্নিত করেছি, এবার একটি অতিরিক্ত প্রবেশ পথ যুক্ত করেছি যেটি ইঞ্জিনিয়ার ইনিস্টিউট অথবা শিখা চিরন্তন গেট দিয়ে প্রবেশ করা যাবে। আপনারা জানেন, রাস্তা ঘাটে উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। এজন্য অতিরিক্ত গেট রাখা হয়েছে। এবারে কিছু কিছু নিরাপত্তা স্ট্র্যাকচার পরিবর্তন করা হয়েছে। আমাদের মোবাইল পেট্রোল থাকবে, ফুট পেট্রোল থাকবে। যারা বই মেলায় আসবেন শুধু তারাই ইঞ্জিনিয়ার ইনিস্টিউটের গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন। আমরা বাংলা একডেমির সঙ্গে কথা বলেছি। মেলা সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের জন্য ঢাবি কর্তৃপক্ষের একটি ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘পার্কিংয়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। তবে বাংলা বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঝে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিশেষ কোনও পরিস্থিতি ছাড়া এ পথে গাড়ি প্রবেশ করবে না। ’

এবারে প্রধানত তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। সাদা পোশাকে একটি ব্যবস্থাপনা থাকবে, সিসিটিভি,আর্চওয়ে থাকবে, গোয়েন্দা সংস্থা ও ডিবির টিম থাকবে বলেও জানান তিনি।

মেলা এলাকায় সিসিটিভি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  নিজাম উদ্দিন বলেন, মেলা এলাকায় ৩২০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।