জনকণ্ঠ নিয়ে ষড়যন্ত্র এবং পত্রিকাটিকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পত্রিকাটির চাকরিচ্যুত সাংবাদিরা।
বুধবার (১৭ মার্চ) আন্দোলনকারী সাংবাদিকরা বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল সাংবাদকর্মীদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সেসব সাংবাদিকরা পত্রিকাটির নীতি ও আদর্শে বিশ্বাসী এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আস্থাশীল তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। যারা এখনও চাকরিতে রয়েছেন তাদের অনেকেই চাকরিচ্যুতদের পক্ষে রয়েছেন। তবে হাতে গোনা কয়েকজন আন্দোলনের সঙ্গে নেই।’
পত্রিকাটির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বিভাষ বাড়ৈ বলেন, যেসব সাংবাদিকরা পত্রিকাটিকে টিকিয়ে রাখতে নিবেদিতভাবে প্ররিশ্রম করেছেন তাদের বাদ দেওয়া ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। এখানে বাইরে কোনও শক্তিও থাকতে পারে। তবে সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থার চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের প্রকৃত অবস্থা বুঝেছেন। পত্রিকাটিকে বাঁচাতে হলে এই ষড়যন্ত্রের অবসান হওয়া দরকার।
চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের অব্যাহতিপত্র প্রত্যাহার করে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান বিভাষ বাড়ৈ।
জনকণ্ঠের সাংবাদিক-কর্মচারীর ইউনিট চিফ ও জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রাজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘সোমবার (১৫ মার্চ) আমরাও সকারের নানা মহলে যোগাযোগ করেছি। রাত ১২টায় আমরা ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ এবং সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপুর নেতৃত্বে স্বারাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখান থেকে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার টেলিফোনে কথা বলেছেন। আমাদের বলা হয়েছে আগামী ২০ মার্চ সরকার, মালিকপক্ষ এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করে এ বিষয়ে একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তথ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ২০ মার্চ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেছি। তবে আমরা মনে করি পত্রিকাটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আর সেকারণেই গণছাটাই করা হয়েছে প্রগতিশীল সাংবাদিকদের।যারা প্রত্রিকাটির জন্য সব সময় নিবেদিত ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) সংবাদ সম্মেলনে চাকৃরিচ্যুত সাংবাদিকরা বলেন, ‘দৈনিক জনকণ্ঠে গণছাঁটাই শুরু হয়েছে। আমরা বেশ কিছু দিন ধরে শুনে আসছিলাম কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক কর্মচারীদের ছাঁটাই করতে চান। সোমবার (১৫ মার্চ) তার প্রথম দফা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রথম দিন ৬০ জনের ছাঁটাইয়ের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। সকালে এরমধ্যে ২৬ জনকে টার্মিনেশন লেটার ইমেল করা হয়েছে। সোমবার (১৫ মার্চ) বিকেলে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃত্বে দৈনিক জনকণ্ঠের সামনে সমাবেশ করে এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে কর্তৃপক্ষ বাকিদের আর টার্মিনেশন লেটার দিতে সাহস করেননি।
প্রসঙ্গত, সোমবার (১৫ মার্চ) বিকেল ৪টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত সেই আন্দোলনে সাংবাদিক নেতারা চাকরিচ্যুতদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে জনকণ্ঠ ভবনের সামনে অবস্থান নেন।
মঙ্গলবারের (১৬ মার্চ) সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত আট বছর ধরে দৈনিক জনকণ্ঠে কোনও পদোন্নতি, ইনক্রিমেন্ট হয় না। এখানে অধিকাংশ সাংবাদিক-কর্মচারী ওয়েজবোর্ড পান না। আট বছর ধরে একই বেতনে কাজ করতে গিয়ে সংবাদর্মীদের সংসার চলে না। তাই সবার দাবির প্ররিপ্রেক্ষিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ট্রেড ইউনিয়ন আইনের মধ্যে থেকে সবার ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন, পদোন্নতি ও ইনক্রিমেন্টের দাবি জানান সাংবাদিকরা।