ভাসানী অনুসারী পরিষদের এক বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান (২৭ মার্চ) দুপুরে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশ মোতাবেক সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ছিল। তারপরও তারা যেহেতু চলে এসেছেন তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ধৈর্য সহকারে তাদেরকে সমাবেশ করতে দিয়েছে। সমাবেশের পরে আগে নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমাবেশস্থল থেকে তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। তাদের ব্যাপারে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে এসময় পুলিশের সঙ্গে কিছুটা ধস্তাধস্তি হয়। কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
এর আগে, স্বাধীনতা দিবসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ট্রাস্টি ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকীসহ অনেকে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, হরতাল ডাকা মৌলিক অধিকার। হরতালে বাধা দেবেন না। যখন রাষ্ট্রপ্রধানরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, এর মধ্যে আমি অশনিসংকেত দেখতে পাচ্ছি। মোদি সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দিচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কে তাকে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে না নিয়ে ভারতের সম্মাননা কেন শেখ রেহানাকে দিয়ে নিলেন সেই প্রশ্নও রাখেন তিনি।
ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর বলেন, স্বাধীনতা দিবসে রক্ত ঝড়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। মানুষকে বন্দি কোনও সুফল আসবে না। উৎসবকে শোকে পরিণত করা হয়েছে। মোদির আগমনে বিরোধীতা করে নুরুল হক নূর আরও বলেন, সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। দেশকে স্বাধীন করতে আবারও যে কোনও যুদ্ধে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী বলেন, ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে বিচারের আওতায় আনতে হবে। নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মিছিলে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনগুলো হামলা চালিয়েছে। সেই মামলা তুলে নিতে হবে।