দেশের অফিস-আদালতে অর্ধেক জনবল দিয়ে পরিচালনার কথা থাকলেও তা হয়নি। অপরদিকে গণপরিবহনে বর্ধিত ভাড়ায় অর্ধেক যাত্রী বহন শুরু হয়েছে। এতে অফিসগামী বিপুল সংখ্যক মানুষ বিপাকে পড়েছেন। যানবাহন না পেয়ে রিকশা বা বিকল্প পরিবহনের যেতে হচ্ছে গন্তব্যে। এ সুযোগেই দেড় থেকে দ্বিগুণ ভাড়া হাঁকছে যানবাহনগুলো। বুধবার (৩১ মার্চ) সকালে নগরীর বিভিন্ন স্থানে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সকাল থেকে সারাদেশে ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়ায় অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহন শুরু করে যানবাহনগুলো। সরকারি নির্দেশনায় আগামী দুই সপ্তাহ এ আদেশ বলবৎ থাকবে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বুধবার সকাল থেকে সব গণপরিবহন অর্ধেক আসনে যাত্রী বহন করছে। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়া আদায় করছে। স্বাস্থবিধি মানতে আমরা কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি।’
সকালে খিলগাঁও, বাসাবো, রাজারবাগ, ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা, পল্টন, গুলিস্তান, কাকরাইল, শান্তিনগর, মৎস্য ভবন, শাহবাগ, বাংলামোটর এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। পরিবহন চালকরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে মানুষের উপস্থিতি অর্ধেক নিশ্চিত হয়নি। যে কারণে গণপরিবহনের জন্য যাত্রীর চাহিদা আগের মতোই রয়েছে। কিন্তু আসন সংকুলান অর্ধেক।
এসময় অধিকাংশ পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি পালন করতে দেখা যায়নি। যাত্রীদের মুখেও মাস্ক ছিল না। কোথাও পরিবহনে ওঠার সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজিং করতে দেখা যায়নি। কোনও কোনও বাসে দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করতেও দেখা গেছে।
জানতে চাইলে মিডওয়ে পরিবহনের চালক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘মানুষের ভিড় অনেক। সকাল থেকে যাত্রীরা গাড়িতে আসন না পেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তখন অনেকেই জোর করে বাসে ওঠার চেষ্টা করে।’
বিহঙ্গ পরিবহনের চালকের সহকারী সামছুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অর্ধেক যাত্রী নিয়েই পরিবহন পরিচালনা করছি। পাশাপাশি দুটি আসনের একটি ফাঁকা রাখা হচ্ছে। যারা মাস্ক ছাড়া পরিবহনে ওঠার চেষ্টা করছেন তাদেরকে বাসে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। যাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা নেই বললেই চলে।’
বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন আরাফাত উদ্দিন। তিনি সকালে অফিসে যাওয়ার সময় বিড়ম্বনায় পড়েন। আরাফাত বলেন, ‘আধা ঘণ্টা ধরে বাসাবো বাস স্ট্যান্ডে অপেক্ষা করেছি। কোনও বাসে আসন ফাঁকা পাইনি। রিকশা সিএনজিগুলো দেড়
থেকে দুইগুণ বেশি ভাড়া চাচ্ছে। কোম্পানি অফিসও অর্ধেক স্টাফ দিয়ে পরিচালনা করছে না। যে পরিমাণ মানুষকে কর্মক্ষেত্রে যোগ দিচ্ছে হচ্ছে সে পরিমাণ পণপরিবহন নেই।’