লকডাউন নিয়ে দেওয়া নির্দেশনা ও বাস্তবতার মিল নেই

ব্যাংকের কাজ করতে রবিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে লালমাটিয়া এলাকা থেকে ঝিগাতলা রওনা দেন রায়হান। আগে থেকে মুভমেন্ট পাস না থাকায় অস্বস্তি নিয়ে বের হন। ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে সাত মসজিদ রোড হয়ে ব্যাংকের কাজ শেষ করে বাসায় ফেরেন। পথে কোথাও কেউ না আটকানোয় খানিকটা চিন্তায় পড়ে যান তিনি। ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সর্বাত্মক লকডাউনে বাসায় থেকে যা যা ভাবছিলেন তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনও মিল নেই। রাস্তায় প্রচুর রিকশা, সাধারণ মানুষ ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে। কেউ তাদের আটকাচ্ছে না।

তেজগাঁও থেকে কলাবাগানের ভেতরে এক আত্মীয় বাসায় যাবেন রেদওয়ান। সাবলীলভাবেই গন্তব্যে পৌঁছানোর পর স্বজনরা জিজ্ঞেস করেন, কীভাবে এলেন। রেদওয়ান বলেন,  ‘প্রধান সড়ক দিয়েই এসেছি। সঙ্গে মুভমেন্ট পাস আছে কিন্তু কোথাও কেউ তো কিছু চাইলো না।’

পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যত বেশি মানুষের চলাচল হবে, তত বেশি সংক্রমণ বাড়বে। আর সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত জায়গায় লকডাউন হলে সংক্রমণের হার কমবে।

কঠোর লকডাউন কর্যকর করতে ১৩ দফা বিধি নিষেধে বলা হয়েছে, অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনা, চিকিৎসা সেবা, মরদেহ দাফন বা সৎকার এবং টিকা কার্ড নিয়ে টিকার জন্য যাওয়া) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। অথচ প্রতিদিন বাইরে বের হওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ির বাইরে বের হলে, চেকপোস্টগুলো এড়িয়ে চললেই কোথাও কেউ কোনও বাধা দিচ্ছে না।

যদিও পুলিশ সদর দফতরে মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের এআইজি সোহেল রানার দাবি, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ।

তিনি বলেন, অযথা বাইরে বের না হতে অনুরোধ করা যাচ্ছে। যারা বাইরে বের হচ্ছেন মাঠে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছে অযৌক্তিক মনে হলে তাদেরকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামলা দেওয়া হচ্ছে জরিমানাও দেওয়া হচ্ছে। চলমান লকডাউন এই সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। জনগণের অপ্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া ঠেকাতে বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।