ওরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে

গতবছর করোনায় লকডাউনের মধ্যে যখন কাজের নিশ্চয়তা নেই তখন মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু এইবছর যখন করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেলো তখন জারি করা কঠোর বিধিনিষেধে আবারও প্রশ্ন ওঠে জীবন নাকি জীবিকা? শ্রমজীবী মানুষ যদি খাবার না জোগাড় করতে পারে তারা সংসার নিয়ে টিকে থাকতে পারবে কি? এবারের কঠোর বিধিনিষেধে কিছুই পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। একে একে সব খুললেও এখনও ফুটপাতের অধিকাংশ দোকান বন্ধ। এই দোদুল্যমানতায় গতবারের তুলনায় কম মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সব তো বন্ধ হয়নি- এই যুক্তিতে এবার সহযোগিতায় সমান অংশগ্রহণ দেখা যায়নি।

লালমাটিয়ায় স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের উদ্যোগে ইফতার বিতরণ

এমন পরিস্থিতিতে এগিয়ে এসেছেন কিছু তরুণ-তরুণী। পৃথক উদ্যোগের নানা কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। ফেসবুকে জেনে অনেকেই অর্থ সহযোগিতা করছেন স্বেচ্ছায়। চেনা নাই জানা নাই অনেকে সহযোগিতার গল্প লিখছেন, ছবি শেয়ার করছেন। যদি আরও কেউ এগিয়ে আসতে চান!

করোনাকালে ঢাকার লালমাটিয়ায় তেমনই একটি উদ্যোগ চোখে পড়ে। ডি-ব্লক এলাকায় কয়েকজন তরুণ-তরুণী মিলে অসহায় মানুষের জন্য ইফতারের ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছিল গত বছর রমজান মাসে। এই বছরও রোজায় নিজেদের সঞ্চিত অর্থ, বন্ধু-স্বজনের সহায়তা নিয়েই শুরু করেছেন। কিন্তু এখন লোকমুখে ছড়িয়ে পড়েছে তাদের ‘মেহমানখানা’। বিকালের থেকে শুরু হয় আয়োজন। এলাকার যারাই আসেন ইফতারের খোঁজে, আশেপাশে শ্রমজীবী নারী পুরুষ শিশু যারাই থাকেন সবার হাতেই তুলে দেওয়া হয় ছোলা-মুড়ি-খেজুর-জিলাপির প্যাকেট।

সুইস বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠান ১০ টাকায় ইফতারের আয়োজন করেছে। কেবল ইফতার না ঈদের নতুন কাপড়ও মিলবে। অবাক হচ্ছেন? প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মোস্তাফিজুর রহমান ফেসবুকে লিখেছেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে, দায়বদ্ধতা আছে রবের নিকটও। প্রচেষ্টা আমাদের। কবুল করার মালিক তিনি। আমাদের এই প্যাকেটগুলো রোজাদারদের জন্য। তবে কিছু মলিন চেহারার ছেলে-মেয়ে রয়েছে রাস্তাঘাটে তাদেরও দিয়ে থাকি এসব খাবার। অনেককে দেখলে মনে হবে বেশ কয়েকদিন ধরে কোনও খাবারই খায়নি। ওদের চেহারার দিকে তাকালে আপনারও অনেক মায়া লাগবে। লকডাউনে অনেকেরই কাজকর্ম নেই তাই তাদের ছেলে মেয়েদের মুখে তিন বেলা খাবার জোটে না। তিন ভাইবোনকে তিনটা প্যাকেট দিয়েছিলাম। বড় মেয়েটা বাসায় থাকা ছোটভাইকে নিয়ে এসে তার প্যাকেটটি হাতে তুলে দিল। নিজে তাকিয়ে তাকিয়ে ওদের আনন্দ উৎসাহ ভরা মুখখানি দেখে মনে হল না খেয়েও ও অনেক তৃপ্তি পেয়েছে। অথচ আমরা ইফতারিতে কত খাবারই নষ্ট করে ফেলি।

দশ টাকার ইফতারের ব্যবস্থা করেছে সুইস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন

‘যাব বহুদূর’ ও অমৃতমের কর্ণধার উদ্যোক্তা আতিকা রোমা এলাকার শিশুদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করছেন। শনিবার খাবার প্রদানের ২য় দিন ছিল- সবজি খিচুড়ি আর ডিম ভুনা। ৬ বছরের ছোট বাচ্চাদের মায়েরা এসে খাবার নিয়ে গেছে। রোমা বলেন, অনলাইনে খাবার দিয়ে থাকি আমরা। আমাদের প্রতিষ্ঠানের পাশে যে শিশুরা আছে নানা সময়ে তারা সেখানে আসে, খায়। কিন্তু এই সময়টাতে সেটি নিয়মিত করা দরকার। আমরা আমাদের সাধ্যের মধ্যে শুরু করেছি। আজ আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম ৪৫ জনের। লিস্টে ছিল ৩৬ জন। ৪৪ জনকে খাবার দিয়েছি। এজন্য আমরা আমাদের ক্রেতাদের বলেছি তাদের নেওয়া খাবারের সঙ্গে একশ টাকা বেশি করে দেওয়ার কথা ভাবলে এই শিশুদের একবেলা খাওয়ানো সহজ হবে।