কেউ আমার বাবাকে একটু খুঁজে দেন!

‘আমার বাবার সন্ধান চাই, কেউ আমার বাবাকে একটু খুঁজে দেন।’— পুলিশ-সাংবাদিক-সাধারণ মানুষ যাকেই সামনে পাচ্ছেন তার কাছেই এই আকুতি জানাচ্ছেন হেনা বেগম। রাজধানীর মগবাজারের ৭৯ নম্বর ভবনের কেয়ারটেকার হারুনুর রশিদ ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও বাবার সন্তান না মেলায় ধ্বংসস্তুপের আশপাশে আহাজারি করছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ জুন) দুপুরে বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ভবনের আশেপাশে আহাজারি করছিলেন হেনা বেগম। এখনও বাবার সন্ধান না পাওয়ায় অনিশ্চয়তা ঘনীভূত হচ্ছে। বাবা কোথায় আছেন? জীবিত আছেন নাকি মারা গেছেন—কোনও বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য নেই। তাই এই আহাজারি তার।

কিছুক্ষণ পরপর কান্নায় মূর্ছা যাচ্ছিলেন হেনা বেগম। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাবা কত বছর ধরে এই ভবনে দারোয়ানের কাজ করেছেন। ২৪ ঘণ্টা তিনি এই ভবনে থাকতেন। আমরা মগবাজার থাকতাম। বাবার সঙ্গে প্রতিনিয়ত ফোনে যোগাযোগ হতো।’

তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে রবিবার বিকালে। বাবা বলছিল, এখানে খাবার এত ভালো নয়, তুমি খাবার রান্না করে নিয়ে এসো। তারপরই সন্ধ্যার দিকে ভবনে বিস্ফোরণের সংবাদ পাই। বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে বাবার কোনও সন্ধান পাইনি। বাবা কোথায় আছেন, সেটা কেউ বলেতে পারছেন না।’

হেনা বেগম বলেন, ‘আমি বাবাকে ফেরত চাই। বাবাকে খুঁজে না পেলে থানায় অভিযোগ করবো। আমি বাবার একমাত্র মেয়ে। আমার একজন ভাই রয়েছে। গ্রামের বাড়িতে থাকায় সে লকডাউনে ঢাকায় আসতে পারছে না।’

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক (অপারেশন্স) দেবাশীষ বর্ধন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হারুনুর রশিদ নামে একজন নিখোঁজের বিষয়টি আমরা অবগত রয়েছি। আমরা গত তিন দিন ধরে ভবনের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছি। কিন্তু কোনও মরদেহ পাইনি। ভবনের পেছনের অংশ ধসে গেছে। দেয়ালের বিভিন্ন অংশগুলো সরানোর পর ওখানে কেউ চাপা পড়ে রয়েছে কিনা তা জানা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে কাজ চলছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’