গণমাধ্যমে তথ্য দিয়ে ‘শাস্তির মুখে’ কুবি শিক্ষক, প্রতিবাদ আসকের

গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি দেওয়ার সুপারিশের প্রতিবাদ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র। আজ বুধবার (৩০ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

বিজ্ঞপ্তিতে আসক জানায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও মেধা তালিকায় একজনের নাম আসার তথ্য গণমাধ্যমকে জানানোর অভিযোগে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে সিন্ডিকেট। তবে গাফিলতির সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনও প্রকাশ করতে নারাজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। উচ্চ শিক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত এমন একটি প্রতিষ্ঠানের এমন আচরণ একবারেই অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত।

আসকের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় বি ইউনিটে ‘অনুপস্থিত শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় ১২তম অবস্থানে আসা’র তথ্য সংবাদমাধ্যমের কাছে সরবরাহ করেছিলেন বলে অভিযোগ করে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে এ ঘটনায় যাদের গাফিলতিতে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর নাম মেধা তালিকায় চলে আসে, তাদের বিরুদ্ধে এখনও কোনওরকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেছেন, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুসারে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেছেন, এটি যেহেতু একটি স্পর্শকাতর বিষয় এবং এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-সম্মান জড়িত, এটা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করবে না।

সিন্ডিকেটের এমন সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জাতির বিবেক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারা মানুষ গড়ার কারিগর। সুদক্ষ ও নীতিবান নাগরিক এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। অথচ দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের অভিযোগে এ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রকৃতপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষকদের দায়িত্বের প্রতি অবজ্ঞা। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১-এ, দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য কেউ প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাকে সুরক্ষা প্রদান করার কথা বলা হয়েছে।

দ্রুততার সাথে এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়েছে আসক।