শিক্ষক আন্দোলনের কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘১২৩ ভাগ বেতন বাড়িয়ে দিয়েছি। বলেছি অসুবিধা হলে দেখবো। ক্লাস বন্ধ করে দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনার ক্ষতি করবেন না। তাহলে শিক্ষার্থীরাও তা মেনে নেবে না। সম্মানবোধ নিজেদের ওপর নির্ভর করে। শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ করে দিয়ে সম্মান আদায় করা যায় না। যদি এতোই মর্যাদায় লাগে তাহলে চাকরি ছেড়ে দিয়ে পিএসসি পরীক্ষা দিয়ে সচিব হয়ে যান। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা নষ্ট করবেন না।’
সোমবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় মেট্রোরেল নির্মাণ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তিতে মেট্রোরেল হবে। যেখানে যেখানে সাউন্ড প্রুফ হওয়া প্রয়োজন সেখানে তা করে দেওয়া হবে। হঠাৎ আন্দোলন কিসের জন্য? হঠাৎ এটা নিয়ে উত্তেজিত হওয়ার কি আছে? যানজটে পড়ে থাকতে চান, না সাঁই সাঁই করে চলে যেতে চান। অবশ্য একটা শ্রেণি আছে যা করতে চাই, তার মধ্যেই তারা ‘কিন্তু’ খুঁজে আর আন্দোলন করে।
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যখন প্রতিষ্ঠা করা হয় তখন ফুলবাড়িয়াসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে রেলস্টেশন ছিল—যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারীরা যাতায়াত সুবিধা ভোগ করতে পারেন। উন্নয়ন কাজে দয়া করে বাধা দেবেন না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। জ্বালাও-পোড়াও ও বাধা দিয়ে কেউ দেশের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবেন না। আগামীতে তিন লাখ কোটি টাকার বাজেট দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যানজট দেখলে আমার ভালো লাগে। আমি আজও জনসভায় আসার পথে যানজটে পড়েছি। যানজট দেখলে আমি খুশি হই, কারণ দেশের মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতা বেড়েছে। সবাই এখন গাড়িতে চড়ে। রাস্তায় এখন প্রচুর গাড়ি।’
জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি শাসনামলের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন,‘আদালতে জিয়ার শাসনামল অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ক্ষমতায় থেকে জিয়া যে দল গঠন করেছেন সেটাও অবৈধ বলে গণ্য করা দরকার। জিয়াকে রাষ্ট্রপতি বললে হাইকোর্টের রায় লঙ্ঘন করা হবে।’
ছবি: সাইফুল ইসলাম কল্লোল, বাসস-এর সৌজন্যে
/পিএইচসি/জেবি/এমএসএম/টিএন/